বাংলাদেশ আর কখনও নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ আর কখনও কোনো দেশের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ভিসার নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান ভারতীয় হাইকমিশনের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং কৌশলগত অবস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়েই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ যেন ভবিষ্যতে আর কখনও কোনো পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: হাসিনার আমলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ ‘ক্রসফায়ারে’ নিহতের দাবি আইনমন্ত্রীর
দুই বছর আগের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিদেশে অবস্থানকালেও তারা বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের প্রাণহানি, দমন-পীড়ন এবং দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এ ধরনের তথ্যপ্রবাহ বন্ধের ঘটনা ঘটেনি। তার ভাষায়, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সেটি ছিল অন্যতম অন্ধকার সময়।
তিনি আরও বলেন, সে সময় জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছিল। তার দাবি, আন্তর্জাতিক মহলের চাপ সহিংসতা কমানো এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রেখেছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে সময় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক রূপান্তর সম্পন্ন করা ছিল তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি দাবি করেন, এসব লক্ষ্য সফলভাবে অর্জিত হয়েছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা সাম্প্রতিক নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সক্রিয় ও কার্যকর উপস্থিতি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে আহত ও আন্দোলনের প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের প্রতিও তিনি সম্মান ও সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।





