বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করল ইরান
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতার আশা জাগলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান আবারও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজের বরাতে জানা যায়, লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালীতে বিকল্প নৌপথ ঘোষণা ইরানের, নিরাপত্তা জোরদার
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন। পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বও সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানায়।
যুদ্ধবিরতির পরপরই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিত পরিসরে কিছু তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও লেবাননে নতুন করে হামলা শুরু হলে আবার তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হতাশায় রেজা পাহলভি
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির শর্ত ও এর পরিধি নিয়ে অস্পষ্টতা থেকেই এই নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে শাহবাজ শরিফ দাবি করেছিলেন, চুক্তির আওতায় লেবানন ফ্রন্টও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে লেবাননে নতুন করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়, যা সংঘাতকে আবারও তীব্র করে তোলে।
এই পরিস্থিতিতে ইরান ক্ষোভ প্রকাশ করে নৌপথ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং বহু তেলবাহী জাহাজ সমুদ্রে আটকা পড়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর সঙ্গে জরুরি আলাপে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন।
তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা পুরো যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াতে পারে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
এতে করে ট্রাম্পের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই শান্তি প্রক্রিয়া নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





