হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ন, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৯:০৪ অপরাহ্ন, ২২ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। ভূরাজনৈতিক এই উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বুধবার (২২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, লন্ডনের সময় সকাল ৮টা ৪২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫৯ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১০০ দশমিক ০৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন: উপসাগরীয় দেশগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও বেড়েছে। এটি ১ দশমিক ৫১ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন মঙ্গলবারও তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও এবং অন্যান্য সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালিতে অন্তত তিনটি কন্টেইনার জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং তেলের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত কী, এ পর্যন্ত কী ঘটল

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়।

এদিকে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ড এবং নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় দেশটি এ অবস্থান নিয়েছে বলে জানা যায়। যদিও সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে ইউরোপেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ তেল সরবরাহ পুনরায় চালুর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, আগামী ১ মে থেকে কাজাখস্তান হয়ে জার্মানিতে রাশিয়ার তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ইউরোপীয় দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধানে চাপের মুখে পড়তে পারে।