যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে ইরান

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৪০ অপরাহ্ন, ০১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৪ অপরাহ্ন, ০১ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আলোচনায় থাকা খসড়া চুক্তির আওতায় ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনীতি, শিল্পখাত, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো পুনর্গঠনে এই তহবিল ব্যবহার করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত ২১

অন্যদিকে, দ্য টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, প্রস্তাবিত তহবিলটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সহায়তার ভিত্তিতে গঠিত হবে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে। খসড়া সমঝোতা স্মারকে উভয় পক্ষ সম্মত হলে প্রাথমিক ৬০ দিনের আলোচনায় তহবিলের কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আলোচ্য খসড়ায় যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অনাক্রমণ চুক্তির বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আওতায় উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। মধ্যস্থতাকারীরা মনে করছেন, এ ধরনের চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন: তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পরমাণু ইস্যুতেও সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। খসড়া অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে এবং আলোচনার সময় তাদের পরমাণু কর্মসূচির কিছু অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে বিরত থাকার আশ্বাস দিতে পারে।

এছাড়া, ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি অব্যাহত রাখা এবং সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন জ্বালানি ও তেল কোম্পানিগুলোর ইরানি যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

খসড়া আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের হিমায়িত সম্পদ। এ সম্পদ অবমুক্ত করার সম্ভাবনাও আলোচনার কাঠামোর মধ্যে রয়েছে। তবে তেহরানের অবস্থান হলো, কার্যকর আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই এ অর্থ ছাড় করা উচিত।

এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। বিশেষ করে ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি জটিল রয়ে গেছে।

আলোচনার দ্বিতীয় ধাপে ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৯৭০ পাউন্ড উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং প্রায় ১০ টন নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে এসব ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিলেও ইরান তা আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে নিজেদের ভূখণ্ডে রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে ইউরেনিয়াম লঘুকরণ বা তৃতীয় কোনো নিরাপদ দেশে স্থানান্তরের বিকল্প নিয়েও আলোচনা এগিয়েছে। তবে ইউরেনিয়াম যেন রাশিয়া বা চীনে স্থানান্তর না করা হয়, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট বলে জানা গেছে।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য টাইমস অব ইসরাইল