শাপলা চত্বরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:২৫ অপরাহ্ন, ৩০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৫ অপরাহ্ন, ৩০ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। শুনানিতে তিনি বলেন, এ মামলায় পরোয়ানামূলে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখন পর্যন্ত আসামিপক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি। তাই তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়।

শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে লতিফ সিদ্দিকীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা ডনের জামিন নামঞ্জুর

এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া, লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কাদের সিদ্দিকীসহ অন্যান্য আইনজীবী।

দুপুর ১টার পর ডিবি পুলিশের একটি মাইক্রোবাসে করে লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, শাপলা চত্বরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এর আগে, ২৭ জুলাই এ মামলায় প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ১০ জনকে হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।

বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আটজন। তারা হলেন—সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

অন্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন হাসানুল হক ইনু। এছাড়া আবদুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তার আছেন। বাকিরা পলাতক।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া রাশেদুল ইসলাম, আবু ইউসুফসহ বহু মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগও রয়েছে। প্রসিকিউশনের মতে, এসব ঘটনা গণহত্যা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় লক্ষ্যভিত্তিক নিপীড়ন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।