গুম, খুন ও নির্যাতনের অভিযোগ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির সাবেক সেনা কর্মকর্তারা
আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় এবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে সেনা কর্মকর্তাদের।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে প্রিজনভ্যানে করে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আনা হয়। তবে ঠিক কতজনকে হাজির করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: ২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগ করলে মিলবে না পেনশন সুবিধা
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল অভিযোগের শুনানি গ্রহণ করছেন।
এ প্যানেলে আরও আছেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আরও পড়ুন: সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
তিনটি মামলায় মোট ৩৪ জন আসামি রয়েছেন, প্রথম মামলায় ১৭ জন,দ্বিতীয়টিতে ১৩ জন, এবং তৃতীয় মামলায় ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এই আসামিদের মধ্যে দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও রয়েছে। ২৫ জন সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে হেফাজতে আছেন, যাদের মধ্যে আছেন সাবেক ডিজিএফআই প্রধানরাও।
সেনা কর্মকর্তাদের আদালতে হাজির ঘিরে বুধবার ভোর থেকেই কাকরাইল, পল্টন, মৎস্য ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট এলাকার আশেপাশে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনা সদস্যরা মোতায়েন ছিল।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, আজ হেফাজতে থাকা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের দিন। কেউ না এলে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ রয়েছে। হাজির হলে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেবে, তারা জামিন পাবেন নাকি জেলহাজতে পাঠানো হবে।
প্রসিকিউশন জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টিএফআই সেল ও জেআইসি সেলে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের গুম-নির্যাতনের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে, জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের অভিযোগে হাসিনা ও তারিক রহমানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়।
এছাড়া জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে বিজিবির কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মামলাগুলোর শুনানিতে অংশ নেন।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেছে, তাই তাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করার আবেদন জানানো হয়েছে।
শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং অভিযুক্তদের আজকের মধ্যেই হাজিরের নির্দেশ দেন।





