গর্ভাবস্থায় এড়ানো উচিত সাধারণ ৫টি ভুল, যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ন, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:২৩ অপরাহ্ন, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এটি শুধু নতুন জীবনের অপেক্ষা নয়, বরং স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং মানসিক সুস্থতার জন্য সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও। তবে অনেক গর্ভবতী মা অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু ভুল করে থাকেন যা মাতৃ এবং ভ্রূণের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। চলুন জেনে নিই, কোন ভুলগুলো এড়ানো জরুরি—

১. প্রসবপূর্ব চেকআপ মিস বা বিলম্ব করা

আরও পড়ুন: ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কি ক্ষতি করছে আপনার ঘুম ও স্বাস্থ্যের?

নিয়মিত চেকআপ গর্ভাবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রথম ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে। এই পরীক্ষা শিশুর বৃদ্ধি, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, গর্ভাবস্থাজনিত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ সনাক্ত করতে সাহায্য করে। সময়মতো চেকআপ নিশ্চিত করলে মা ও শিশু উভয়ই সুস্থ থাকে।

২. পুষ্টি উপেক্ষা বা ডায়েট ট্রেন্ড অনুসরণ করা

আরও পড়ুন: যে পোশাকগুলো কখনোই ওয়াশিং মেশিনে দেওয়া উচিত নয়

গর্ভাবস্থায় খাওয়া মানে নয় শুধু দুইজনের জন্য খাওয়া, বরং সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা। ওজন কমানোর জন্য খাবার সীমিত করা বা সোশ্যাল মিডিয়ার ডায়েট ট্রেন্ড অনুসরণ করা বিপজ্জনক। পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

৩. পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ বা ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার

গর্ভাবস্থায় নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। অনেক সাধারণ ব্যথানাশক, ঠান্ডা-কাশি ওষুধ, ভেষজ সম্পূরক এবং ঘরোয়া প্রতিকার নিরাপদ নাও হতে পারে। গর্ভাবস্থায় ওষুধ গ্রহণের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

৪. শারীরিক কার্যকলাপ এড়ানো

অনেকে মনে করেন পুরো সময় বিশ্রামই নিরাপদ। তবে চিকিৎসকের অনুমোদনে মাঝারি শারীরিক কার্যকলাপ যেমন হাঁটা, প্রসবপূর্ব যোগব্যায়াম, হালকা স্ট্রেচিং উপকারী। এটি রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে, পিঠের ব্যথা কমায়, অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরকে প্রসবের জন্য প্রস্তুত করে।

৫. মানসিক স্বাস্থ্য এবং চাপ উপেক্ষা করা

গর্ভাবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্য উপেক্ষা করা হয়। উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা এবং চাপ স্বাভাবিক মনে করে অনেকেই চিকিৎসা পান না। অনিয়ন্ত্রিত মানসিক চাপ মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মানসিক চাপের বিষয়গুলো ডাক্তারের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা উচিত।

গর্ভাবস্থায় সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখা মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। নিয়মিত চেকআপ, সুষম পুষ্টি, নিরাপদ শারীরিক কার্যকলাপ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিলে গর্ভাবস্থা আরও নিরাপদ ও সুখকর হতে পারে।