কক্সবাজার বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬ অনুষ্ঠিত

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ন, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৮ অপরাহ্ন, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কক্সবাজার বিমানবন্দরে  বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। ICAO Standards and Recommended Practices (SARPs) এবং National Civil Aviation Security Programme (NCASP)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি বিমানবন্দরে প্রতি দুই বছরে অন্তত একবার এ ধরনের মহড়া আয়োজন বাধ্যতামূলক। সেই ধারাবাহিকতায় হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা যাচাই এবং সমন্বয় জোরদার করতেই এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।

মহড়ার দৃশ্যপটে দেখানো হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা থেকে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে BlueWave Airways-এর ফ্লাইট নম্বর BWA789 আটজন যাত্রী ও দুইজন কেবিন ক্রু নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। উড্ডয়নের প্রায় ১০ মিনিট পর কক্সবাজার বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি বেনামী ফোন কল আসে, যেখানে জানানো হয় বিমানের ভেতরে একটি বোমা রাখা হয়েছে এবং যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশসহ চার সংশোধনীতে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন

হুমকির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের পরিচালক ও এভিয়েশন সিকিউরিটি ইনচার্জকে জানানো হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানবন্দর পরিচালক Risk Advisory Group-এর সঙ্গে আলোচনা করে ‘ফুল এমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেন এবং ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার (EOC) সক্রিয় করার নির্দেশ দেন।

এরপর EOC-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মেডিকেল ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে অবহিত করে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন: সরকারের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতেই এই গণভোট: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

এই মহড়ায় অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, কক্সবাজার জেলা পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টিম এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ একাধিক সংস্থা।

মহড়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি সকল অংশীজনকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এ ধরনের মহড়া শুধু নিরাপত্তার দুর্বলতা চিহ্নিত করতেই নয়, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের সময় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল এবং সেদিন রাত ৯টার মধ্যেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা যায়।

চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য ICAO নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতিতে এ ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীতকরণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

মহড়ায় আরও উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান এবং সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবালসহ বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।