জাপানি বিনিয়োগ ও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৩ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মীকে জাপানে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায়।

সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাপানের সাবেক ফার্স্ট লেডি আকিয়ে আবে ও জাপানি উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন।

আরও পড়ুন: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশে আর কখনও ‘রাতের ভোট’ হবে না: অধ্যাপক আলী রিয়াজ

সাক্ষাতে আকিয়ে আবে বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ড. ইউনূসের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বৈঠকে বিনিয়োগ, সামুদ্রিক গবেষণা, জাপানে পরিচর্যাকারী ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জাপানে এসব পেশায় জনবলের চাহিদা বাড়ছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: নির্বাচন ডাকাতি বন্ধ করতে আগের জড়িতদের চেহারা সামনে আনতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

সামুদ্রিক দূষণ রোধে সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করে আকিয়ে আবে বলেন, বঙ্গোপসাগরে আবর্জনা না ফেলা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ বিষয়ে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জনগণকে সমুদ্র দূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জানান, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার পর মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে টোকিও সফর করবেন। সেখানে জাপানের সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথ সামুদ্রিক গবেষণা উদ্যোগে অংশ নেবেন। এছাড়া ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম উপকূলে মহেশখালী-মাতারবাড়ী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করেছে। এই চুক্তির আওতায় উপকূলীয় এলাকায় তিনটি আদর্শ মৎস্যগ্রাম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ড. ইউনূস বলেন, জাপানে কর্মসংস্থানের জন্য হাজার হাজার নার্স ও কেয়ারগিভারকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম জোরদার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে অন্তত এক লাখ বাংলাদেশি কর্মীকে জাপানে পাঠানোর জন্য জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ইতিমধ্যে চুক্তি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সংখ্যা আরও বাড়াতে আকিয়ে আবে ও জাপানি প্রতিনিধিদলের সহযোগিতা কামনা করছেন।

বৈঠকে জাপানের শীর্ষ বায়োফুয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইউগ্লেনার প্রতিষ্ঠাতা মিৎসুরু ইজুমো সামাজিক ব্যবসাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। নির্বাচন শেষে তিনি আগের কাজে ফিরে যাবেন। তিনি পুনরায় স্পষ্ট করেছেন, ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া বা কোনো সরকারি বা রাষ্ট্রীয় পদে থাকার কোনো ইচ্ছা তার নেই। বরং তিনি মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং ‘থ্রি জিরো’—শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ ও শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ—এই ধারণা বাস্তবায়নে কাজ করতে চান।