গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার নির্দেশ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:২৯ পূর্বাহ্ন, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা ও উপশাখার সামনে গণভোট বিষয়ক প্রচারণামূলক ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আরও পড়ুন: প্রায় ৪ হাজার গণমাধ্যমকে ভোটের পাস দেবে ইসি

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ওপর অনুষ্ঠেয় গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রতিটি ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখার দৃষ্টিনন্দন স্থানে দুটি করে খাড়া ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে দেওয়া নির্দেশনার আলোকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কারের বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন: দুর্নীতির অভিযোগে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে দুদকের তলব, তদন্ত জোরদারের দাবি

এর আগে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার আহ্বান জানান। ওই আহ্বানের পর কয়েকটি ব্যাংক স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রচারণা শুরু করলেও লিখিত নির্দেশনা না থাকায় কিছু ব্যাংক তা বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করে। পরে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

গত সপ্তাহে রাজধানীর সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের একাধিক শাখায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণামূলক ব্যানার টানানো দেখা গেছে। এসব ব্যানারে লেখা রয়েছে—

‘গণভোট ২০২৬, সংসদ নির্বাচন। দেশের চাবি আপনার হাতে। আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে?’

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে গণভোটে জনসচেতনতা তৈরির জন্য মোট ১২টি বিষয়ের ওপর প্রচারণার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলো হলো— সরকারি দল ইচ্ছামতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে গণভোট বাধ্যতামূলক করা, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব ধাপে ধাপে বৃদ্ধি, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ না করার নিশ্চয়তা, দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতির ইচ্ছামতো ক্ষমা না দেওয়ার বিধান এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা।

প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে প্রচারণামূলক ব্যানারের নমুনা ও ছবি সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।