চাঁদাবাজ ও অপকর্মকারীদের তালিকা হচ্ছে: শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযান
জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সরকার গঠনের পরপরই রাজধানীসহ সারাদেশে চাঁদাবাজ দখলবাজ সন্ত্রাসী দুর্বৃত্তসহ অপকর্মকারীদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে বা যেসব নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অপকর্ম হচ্ছে তাদেরও তালিকা হচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, অপকর্ম কারীদের তালিকা তৈরিতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সরাসরি ফোন করেন পুলিশের আইজিপি ও অন্যান্য গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধানকে।
চলতি মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে দুর্বৃত্তদের তথ্য অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, পিআইও, রেপিড একশন ব্যাটালিয়নসহ মেট্রোপলিটন ইন্টেলিজেন্স। পাশাপাশি চাঁদাবাজদের তালিকা ও আশ্রয় প্রশ্রয় নেতাদের সন্ধান করছে ডিজিএফআই, এনএসআই ইউনিটে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সরেজমিন তথ্য অনুসন্ধানে নেপথ্যের গডফাদারসহ চাঁদাবাজদের সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ তালিকা করছে। সিটিএসবি ও মেট্রো ইনটেলিজেন্সের ঢাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আলোচিত কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামও চলে এসেছে চাঁদাবাজিতে, তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে চাঁদাবাজি ও দখল বাজির ঘটনায় ব্যক্তিদের চিহ্নিত এবং তাদের গডফাদার দের চিহ্নিত করে তাদের রাজনৈতিক পদ-পদবিসহ বিস্তারিত বিবরণ কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হচ্ছে প্রতিবেদনে। স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদর দপ্তর থেকে এই তালিকা করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাতে মেট্রো ইন্টেলিজেন্স এর পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক ও দলীয় দায়িত্বশীলদের এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তালিকা তৈরিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুলিশের কারণ রাজনৈতিক
আরও পড়ুন: পাঁচ মিনিট আগেই সংসদের অধিবেশনে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
পক্ষে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন।
প্রভাবশালীরা তাদের সাথে জড়িত। চাঁদাবাজি দখলবাজিতে অভিযুক্ত অনেকের সাথেই রয়েছে পুলিশের সখ্যতার অভিযোগ। অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ প্রতিবেদনে চাঁদাবাজিসহ দখলবাজি ও অপকর্মচারীদের কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ডিজিএফাই ও এনএসআই এর প্রতিবেদনে বিস্তারিত উঠে আসছে।
আরও পড়ুন: সংসদ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র: ডেপুটি স্পিকার
পুলিশের আইজি মো. আলী হোসেন ফকির এ বিষয়ে বলেন, চাঁদাবাজি সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা চাঁদাবাজির সঙ্গে যত বড় প্রভাবশালীই হোক তাকে পাকড়াও করা হবে। এ বিষয়ে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর তালিকা সংগ্রহ চলছে। হাতে পেলেই অভিযান শুরু হবে। এ ব্যাপারে পুলিশের প্রত্যেকটা ইউনিটকে সজাগ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, আসলে চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই। এরা সব সময় নিজেদের সুবিধা আদায়ে রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে। অতীতের তালিকাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করবে।
গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা বলেন, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সবকটি ইউনিটকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করছে সব গোয়েন্দা সংস্থাও। চাঁদাবাজি ছাড়াও বালুমহাল জলমহাল, হাটবাজার ও সরকারি সম্পত্তি দখল করা ও স্থানীয় প্রভাব, ডিস ব্যবসা, ময়লা ব্যবসাসহ সামাজিক বিভিন্ন কাজে নানা কৌশলে জনগণের কাছ থেকে অবৈধ উপার্জনকারীদের এই তালিকায় আনা হচ্ছে। এমনকি নগরীর প্রতিটি বাস টার্মিনালেও চাঁদাবাজরা বিভিন্ন নামে চাঁদা তুলছে। প্রতিদিন প্রতিটি বাস থেকে ১শ থেকে দেড়শ টাকা চাঁদা নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে তথ্য চাওয়ায় সুস্পষ্ট করে তালিকা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজরা সারা দেশে সক্রিয় হয়ে উঠে। নগরীর সড়ক ও ফুটপাত থেকে শুরু নদীর বালুমহাল পর্যন্ত সব দখল করে নেয় তারা। গোয়েন্দাদের মতে, শুধু গুলিস্তানেই বার্ষিক চাঁদাবাজির পরিমাণ অন্তত অর্ধশত কোটি টাকা।
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মব, চাঁদাবাজি দখলবাজিসহ নানা অপকর্ম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাঁদাবাজ ধকলবাজের একটি তালিকা প্রণয়ন করে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর একই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ছয় মাস আগের এই তালিকাটি এনালাইসিস করে দেখা যায় অনেকটা একপেশে রাজনৈতিক বিভ্রান্তিকর। তাই প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বাহিনী প্রধানদের নিরপেক্ষতার সাথে একটি তালিকা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তর পরিদর্শনে গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করে বলেন, 'খুব শিগগিরই রাজধানী ঢাকা থেকে চাঁদাবাজদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। যারা অস্ত্রধারী ও দাগি আসামি, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। অতীতের মতো তাবেদারি নয় পুলিশকে জনবান্ধব পুলিশে পরিণত করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এটি জনগণের সরকারড় আগের সরকারের সঙ্গে তুলনা না করে বর্তমান প্রশাসনের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে হবে। পুলিশ বাহিনী দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রস্তুত রয়েছে এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক কোনো পুলিশিং চলবে না; পুলিশ আইনের গতিতেই চলবে।'
তিনি আরও বলেন, 'ফ্যাসিবাদী রেজিমের কারণে কিছু মানুষ ভুক্তভোগী হয়েছেন। তবে বর্তমান সরকার চেইন অব কমান্ড মেনে প্রশাসন পরিচালনা করতে চায়। কোনো থানার ওসি সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন করবেন নাড় এটি শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।'





