বন্ধের হুমকিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি
- ৮ এপ্রিল শেষ হতে পারে ক্রুডের মজুত
- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে আমদানি করা ক্রুড আসার সম্ভাবনা নেই
বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। সরকার নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি আমদানি করে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে চলেছে। এর মধ্যে ক্রুড সংকটে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আশঙ্কায় মাথাব্যথা বেড়েছে বিপিসির।
সংকট সামাল দিয়ে সরবরাহ ঠিক রাখতে বিপিসির অপারেশন ও বণ্টন বিভাগের কর্মকর্তারা রাতদিন কাজ করছেন। তথ্য মতে, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) রাখার আটটি ট্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে দুটির বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণ চলছে। বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ মার্চ সকালে ইস্টার্ন রিফাইনারির ৬ ট্যাংকে ডেডস্টক (অব্যবহৃত মজুত) বাদে ৩৯ হাজার ১৮৯ টন অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। ইআরএল প্রতিদিন চার হাজার টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে। সে হিসেবে সরকারি রিফাইনারিটিতে পরিশোধনের জন্য ১০ দিনের কম অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের স্বনির্ভর করে তোলা হবে: মির্জা ফখরুল
সূত্র জানিয়েছে, এ মজুতে নিরাপদ উৎপাদন হবে মাত্র ৬ দিন। সবমিলিয়ে হিসাব করলে বর্তমান মজুতে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্ল্যান্ট চালানো যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে এই সময়ের মধ্যে আমদানি করা ক্রুড আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাতে ওইদিন অপরাহ্নে বন্ধ করে দিতে হতে পারে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্ল্যান্টটি। কারণ সৌদি আরব থেকে একটি জাহাজ বাংলাদেশে আসতে কমপক্ষে ১২ দিন সময় লাগে। তবে এ বিষয়ে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাতের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, অপরিশোধিত তেলের বর্তমান মজুতে ছয়দিন স্বাভাবিক উৎপাদন চলবে। এরপর টেনেটুনে ৯ দিন চালানো সম্ভব হবে। নতুন করে অপরিশোধিত তেল না এলে এরপর প্ল্যান্ট বন্ধ করে দিতে হবে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, তারা দুই ধরনের অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। অ্যারাবিয়ান লাইট এবং মারবান ক্রুড। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইআরএল পরিশোধন করে ৭ লাখ ৩২ হাজার ২৩০ টন ডিজেল, ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২২৯ টন ফার্নেস অয়েল, ৫৯ হাজার ১৫০ টন পেট্রোল, ৫৬ হাজার ৯৩৪ টন কেরোসিন, ৫৭ হাজার ৪১৪ টন বিটুমিন, ১৬ হাজার ১৮৭ টন এলপিজি, ৮ হাজার ৭১ টন জেবিও এবং ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫২৯ টন ন্যাফতা বিপিসিকে সরবরাহ দিয়েছে।
আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: রাজনীতি, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের দীর্ঘ পথচলা
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। অবশিষ্ট ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া যায়। সরবরাহ করা জ্বালানির মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল।
বিপিসি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহার হয়েছে পরিবহন খাতে। পরিবহনে জ্বালানিতে মোট বিক্রিত জ্বালানির ৬৩ দশমিক ৪১ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিতে ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, শিল্পে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, বিদ্যুতে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গৃহস্থালিতে শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে অন্য খাতে।
ব্যবহৃত জ্বালানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৫ টন, যা মোট বিক্রির ৬৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ফার্নেস অয়েল ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮ টন, যা মোট বিক্রির ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পেট্রোল ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যা মোট ব্যবহারের ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অকটেন ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৩ টন, যা মোট ব্যবহারের ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। কেরোসিন ৬৭ হাজার ৪৭৭ টন, যা মোট ব্যবহারের শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ। জেট ফুয়েল ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৪ টন, যা মোট ব্যবহারের ৮ দশমিক ০১ শতাংশ এবং অন্য খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৯ টন, যা মোট ব্যবহারের ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। দেশের মোট ২৭টি ডিপোর মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে দেশে বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোতে জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা ১৫ লাখ টনের কাছাকাছি। জ্বালানি তেলের বর্তমান ব্যবহারের ধারা বিবেচনায় দেশে প্রায় ৪৫ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ মজুত রাখা হয়। সম্প্রতি ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শরীফ হাসনাত বলেন, আমরা প্রতি মাসে গড়ে ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ দিই। পাশাপাশি আমরা পেট্রোল উৎপাদন করি। অন্য পণ্য বাদে ১৫ হাজার টন পেট্রোল সরবরাহ দিই। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ব্যবহৃত শতভাগ ক্রুড অয়েল আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ জিটুজি পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) আমদানি করা এসব অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে। বিএসসি এসব ক্রুড পরিবহনের জন্য বর্তমানে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জি থেকে চার্টারে জাহাজ ভাড়া নেয়। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। এ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে। কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এ জলপথকে বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বড় অংশ হরমুজ প্রণালি হয়েই পরিবাহিত হয়। প্রধান রপ্তানিকারক সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ইরাক এবং ইরানের মতো তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এই জলপথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করে, যা দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের মতো অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর বিপরীতে ইসরায়েলসহ আশপাশের আরব দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। যুদ্ধের মধ্যে ইরান এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রভাব পড়ে। এ জলপথ বন্ধ হওয়ার বাংলাদেশে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও এলপিজি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ইআরএলের অপরিশোধিত তেল আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে বিএসসির চার্টারার প্রতিষ্ঠান আমেরিকান কোম্পানি হওয়ায় চলতি মাসে দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিবহন আটকে যায়। এর মধ্যে ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামে একটি জাহাজ এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল লোড নিয়ে ৫ মার্চ থেকে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে। অন্য পার্সেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেলদানা বন্দর থেকে ২১-২২ মার্চ, পরবর্তীসময়ে সূচি পাল্টে ৩১ মার্চ এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল লোড নেওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই যুদ্ধ এলাকায় মালিকপক্ষের জাহাজ পাঠানোর অনীহার কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামে ট্যাংকার ভেসেলের যাত্রা বাতিল হয়। ফলে অপরিশোধিত তেল সংকট তৈরি হয় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সুযোগ দিতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। অন্যদিকে, সৌদি আরব থেকে বিকল্প পন্থায় এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আনছে বিপিসি। রাস তানুরা থেকে পাইপলাইনে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে আসা এসব অপরিশোধিত তেল লোড নিতে ২০ ফেব্রুয়ারি একটি ট্যাংকার জাহাজ ইয়ানবুতে যাওয়ার কথা। পরিকল্পিত সূচিতে জাহাজ লোড হলে ওই পার্সেলটি ১ মে বাংলাদেশে আসতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। একই সঙ্গে রাস তানুরায় আটকা জাহাজও হরমুজ অতিক্রম করতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক। তিনি বলেন, আমাদের এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল লোড নিয়ে নর্ডিক পোলাক্স রাস তানুরায় আটকা রয়েছে। আমরা জাহাজটি হরমুজ দিয়ে আনার জন্য ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া রাস তানুরার পরিবর্তে ইয়ানবু বন্দর দিয়ে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টনের আরেকটি পার্সেল সরবরাহের কথা দিয়েছে সরবরাহকারীরা। এটি মোটামুটি নিশ্চিত। আগামী ২০ এপ্রিল ইয়ানবু থেকে আমাদের জাহাজ লোড হবে। কার্যাদেশ পেলে চিন থেকে জাহাজটি ইয়ানবু যাবে। ইয়ানবু থেকে আসতে হরমুজ ব্যবহার করা লাগে না।
কমডোর মালেক বলেন, সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ক্রুডবাহী একটি জাহাজ বাংলাদেশে আসতে ১২ দিন সময় প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে ইয়ানবুতে কাঙ্ক্ষিত সময়ে লোড নিলে আগামী ১ মে জাহাজটি বাংলাদেশে আসবে। অন্যদিকে, রাস তানুরা থেকেও বাংলাদেশে আসতে ১২ দিন লাগে। সে হিসাবে নর্ডিক পোলাক্স জাহাজটি ছাড়ানো গেলে ১২ দিন পরে বাংলাদেশ পৌঁছাবে। যদিও এখনো ওই জাহাজটির আসার অনিশ্চয়তা কাটেনি। জাহাজ বহির্নোঙরে আসার দিনই লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে পৌঁছানো যাবে।
বিপিসির মহাব্যবস্থাপনা (বাণিজ্য ও অপারেশন) মোরশেদ হোসাইন আজাদ বলেন, দেশে সাপ্লাই চেইন স্বাভাবিক রাখার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্পট মার্কেট থেকে আমরা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত ডিজেল ও অকটেন আনছি। তাছাড়া হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আমাদের এক লাখ টনের একটি জাহাজ রাস তানুরায় আটকা আছে। এতে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এজন্য সৌদি আরব থেকে বিকল্প পথে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আনছি। এটি এপ্রিলের মাঝামাঝি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এসব অপরিশোধিত তেল লোড হবে। ৮ এপ্রিলের আগে ইস্টার্ন রিফাইনারির অপরিশোধিত তেলের মজুত শেষ হবে, এজন্য জ্বালানি বিভাগ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে জানতে চাওয়া হলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, হরমুজ প্রণালি চালু থাকলে আমাদের অপরিশোধিত তেলের কোনো সমস্যা হতো না। এখনো হরমুজে আমাদের ক্রুডভর্তি জাহাজ আটকা আছে। এখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে একটি সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলা করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইস্টার্ন রিফাইনারি সচল রাখতে বিকল্প পথে অপরিশোধিত তেল আনার চেষ্টা করছি।
সৌদি আরবের একপাশে পারস্য সাগর ও অন্যপাশে লোহিত সাগর। পারস্য সাগর থেকে বাংলাদেশে আসতে হরমুজ দিয়ে আসতে হয়। রাস তানুরার অবস্থান পারস্য সাগরে ও ইয়ানবু বন্দরের অবস্থান লোহিত সাগরে। লোহিত সাগর থেকে বাংলাদেশে আসতে হরমুজ ব্যবহার করতে হয় না। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলেও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে হরমুজ প্রণালির নিকটস্থ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু পর্যন্ত স্থলপথে ১২শ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ করেছে সৌদি সরকার। এটি ইস্ট-ওয়েস্ট পেট্রো পাইপলাইন হিসেবে পরিচিত। এই পাইপলাইন ব্যবহার করে রাস তানুরার জ্বালানিক্ষেত্র থেকে ইয়ানবু বন্দরে জ্বালানি তেল পাঠায় সৌদি আরব। বর্তমানে পাইপলাইনটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল ইয়ানবুতে পাঠানো হয়। ইয়ানবু থেকে তেল সরাসরি বাব আল-মানদেব প্রণালি (সুয়েজ খাল) হয়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় যেতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মোট মজুতের পরিমাণ এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন বলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।





