প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে এলাকার কৃষকরা
সাতকানিয়ায় ফসলি জমি কেটে নিচ্ছে মাটি খেকোরা, নির্বিকার প্রশাসন
স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় চিহ্নিত মাটি খেকো দুর্বৃত্তরা সাতকানিয়ার ফসলি জমির মাটি জোর করে কেটে নিচ্ছে। এলাকার ২শ-এর বেশি ইটের ভাটায় মাটি সরবরাহ করার জন্য সন্ত্রাসীরা শত শত এস্কেভেটর, ড্রেজার ও ট্রাক ব্যবহার করে ১৫ থেকে ২০ ফুট করে হাজার হাজার একর ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে গেছে।
নিরীহ কৃষকরা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলেও তারা এক প্রকার নীরব ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের সহায়তা না পাওয়ায় এলাকাবাসী উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। জমির মাটি কাটা বন্ধে উচ্চ আদালত কটোর নির্দেশনা দিলেও স্থানীয় প্রশাসন তা মানছে না। সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এলাকাবাসী সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সাতকানিয়ার মাটিকাটা বন্ধে বিনীত দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
আরও পড়ুন: ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত
এলাকাবাসী জানায়, একসময়ের উর্বর তিন ফসলি জমিগুলো এখন গর্ত-খন্দকে পরিপূর্ণ। ভবিষ্যতে এই জমিগুলো কৃষির আর কোনো কাজে আসবে না। মাটি দস্যুরা সন্ধ্যার পর থেকেই ৫০টির বেশি স্কেলেভেটর ও ডাম্পার ট্রাক নিয়ে মাটি কাটার প্রস্তুতি নেয় এবং সব গাড়ি লাইনে ধরে বিলে মাটি কাটতে নামায়। রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে মাটি কেটে ভয়াবহ তাণ্ডব চালাচ্ছে প্রতিনিয়তই।
এলাকার জাফর আহমদ চৌধুরী কলেজের মাত্র ৫০ ফুটের মধ্যে প্রায় ২০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। যার ফলে ভবিষ্যতে কলেজের স্থাপনাগুলো ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভূমিদস্যু ও থানার ওসি জোটবদ্ধ হয়ে এই অপকর্ম করার কারণে এলাকার সম্মানিত ও জনসাধারণ, কৃষক কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেন না।, এর প্রতিবাদ করলে ও কাজ হচ্ছে না। সাতকানিয়া তেমুহনি মৌজায় ২৭ মার্চ , সকাল ৯:০০ ঘটিকার প্রকাশ্যে, সাতকানিয়া ওসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মাটি ব্যবসায়ের পার্টনার হিসেবে পরিচিত একাধিক চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবর আহমদ বাবু ও শীর্ষ সন্ত্রাসী তুর্কির নেতৃত্বে প্রায় ৫০টির মতো অবৈধ ড্রাম ট্রাক দিয়ে কৃষকের কৃষি জমি থেকে অস্ত্রের মুখে মাটি কেটে নিয়ে যায়। এলাকাবাসী প্রশাসনকে জানালেও কোন প্রতিকার পায়নি।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৫
ভূমিদস্যুরা প্রায় প্রতিদিনই ধারাবাহিকভাবে মাটি কাটার কাজ অব্যাহত রেখেছে। সবচেয়ে বেশি তেমুহনি মৌজার বিভিন্ন পয়েন্টে মাটি কেটেছে। ঐদিন রাত ৯টার দিকে ভূমিদস্যু মুজিব মেম্বার (মামলার ০২ নং আসামি) আপনার জমিতে মাটি কাটার প্রস্তুতি নিয়ে রাত ১০টার দিকে পূর্বের কাটা জমির উপর আবার মাটি কাটা শুরু করে। বিষয়টি ওসিকে জানানোর জন্য অনেকবার ফোন করার পরও তিনি রিসিভ না করলে মেসেজ দিয়ে জানাই। ওসি ফোন বা মেসেজের কোনো জবাব দেয়নি। ওসি প্রত্যক্ষভাবে ভূমিদস্যুদের সহযোগিতা করছে।
পরবর্তীতে সার্কেল অফিসার কোনো মারফতে খবর পেয়ে থানায় ফোন করে এস. আই. মাহবুবকে মাটি কাটার ঘটনাস্থলে পাঠায়। তিনি সেখানে গিয়ে জমি থেকে সামান্য দূরে একটি স্কেলেভেটর পালিয়ে যাওয়ার সময় ড্রাইভারসহ গাড়িটি আটক করে থানায় নিয়ে যান। ড্রাইভার ও গাড়ি যাতে ছাড়া না যায়, সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন অফিসারের জানানো হলেও কাজ হয়নি।
ঊর্ধ্বতন অফিসারগণ ওসিকে বারবার মাটি দস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলার পরও ওসি বিপুল অর্থের বিনিময়ে ভূমিদস্যুদের মাটি কাটায় সহযোগিতা করছে বলে এলাকার কৃষকদের অভিযোগ আছে। ঊর্ধ্বতন অফিসারদের মাধ্যমে মাটি কাটা বন্ধ করার জন্য ওসিকে চাপ দেওয়ার তিনি কয়েকজন জমির মালিকের উপর রাগান্বিত হয়ে খারাপ ভাষা ব্যবহার করেছেন। বর্তমান ওসি থাকাকালীন কোনভাবেই ভূমিদস্যুদের মাটি কাটার কাজ বন্ধ করা যাবে না বলে ভূমির মালিকরা মনে করেন।
ভূমিদস্যুরা সশস্ত্র অবস্থায় থাকার কারণে কাছে গিয়ে মাটি কাটার ছবি বা ভিডিও ধারণ করা যায় না। তারপরও অনেক চেষ্টা করে গত রাত্রির কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছে কয়েকজন সাংবাদিক।
এদিকে, স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের কোনো প্রতিকার না পেয়ে হাইকোর্ট কর্তৃক কৃষি জমির মাটি কাটার উপর নিষেধাজ্ঞা ও রুল জারি থাকা সত্ত্বেও ভূমিদস্যুরা ওসিকে ম্যানেজ করে মাটি কাটার কাজ অব্যাহত রেখেছে। ওসির সহযোগী এস. আই. মাহবুবকে দিয়ে একটি লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় একশোর মতো গাড়ি মাটি কাটলেও শুধুমাত্র একজন ড্রাইভার ও একটি গাড়ি আটক করা হয়েছে। মামলার এজাহানামীয় ০২ নম্বর আসামি ভূমিদস্যু মুজিব মেম্বার এস. আই. মাহবুবের সামনে পড়লেও তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।
রাতে আটককৃত স্কেলেভেটরের ড্রাইভারকে ওসি সকালে ছেড়ে দিয়েছে এবং গাড়িটি লিয়াজো করে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাত নামলেই সাতকানিয়ার জমি বিস্তীর্ণ বিল ও উচ্চভূমিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে মাটিতেচিহ্নিত এই মাটি খেকো দুর্বৃত্তরা।
এদিকে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনজুরুল হক বাংলাবাজার পত্রিকাকে জানান, দুর্বৃত্ত রাতের আঁধারে বিভিন্ন ফসলের জমিতে মাটি কাটছে, ঠিকই, তবে ইউএনওকে নিয়ে আমরাও অভিযান পরিচালনা করছি। অভিযানের খবর পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পুলিশের বিরুদ্ধে নির্বিঘাত থাকার অভিযোগ সঠিক নয়।
এলাকাবাসী জানায় দুর্বৃত্তরা আমেরিকা প্রবাসী আলমগীর শিকদারের বাড়ি সংলগ্ন ফসলে জমির ১০ থেকে ১৫ ফুট মাটি কেটে নিয়ে গেছে জোর করেই। এলাকাবাসী বাধা দিলে উল্টা হুমকির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে। ইটের ভাটা ব্যবসায়ীদের স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই মাটি দস্যু সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
জাফর আহমদ কলেজ ও আশপাশের কৃষকরা জানান, মাটিদস্যুদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও মানা হচ্ছে না। তাই সর্বশেষ ভরসা নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিষয়টি হস্তক্ষেপের জন্য এলাকাবাসীর বিনীত আবেদন।





