‘আমরা যুদ্ধকালীন অবস্থায় আছি’, জ্বালানি ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ সভা

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:২২ অপরাহ্ন, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৪:২২ পূর্বাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জ্বালানি তেলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পৃথক দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে এই সভা দুটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের যৌক্তিকতা এবং আসন্ন বর্ষায় বন্যা মোকাবিলায় সরকারের আগাম প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা প্রধানমন্ত্রীকে দেশের জ্বালানি তেলের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রেক্ষাপট অবহিত করেন। সাক্ষাৎ শেষে জ্বালানি মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা একটা যুদ্ধকালীন অবস্থার মধ্যে আছি। সারা বিশ্ব তাদের জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে, এমনকি আমেরিকাও ৫ ডলার বাড়িয়ে দিয়েছে।’

আরও পড়ুন: সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী শাহজালাল বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকার ঘটনার সত্যতা

বৈদেশিক মুদ্রায় তেল কিনতে হয় বলে সহনীয় পর্যায়ে থাকতে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে সরকার বাধ্য হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইমপোর্ট করে আমরা যে স্টক তৈরি করেছি, তার যে দাম পড়েছে, সেই দামের থেকে নিচে আমরা এখন প্রাইস অ্যাডজাস্ট করছি। এটা করতে বাধ্য হয়েছি আমরা। কারণ এটা বৈদেশিক মুদ্রায় কিনতে হয়, সেটা সমন্বয় করে যাতে আমরা সহনীয় লেভেলে থাকতে পারি সেই ব্যবস্থা করেছি।’

শনিবার রাত থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, তেলের দাম বাড়ানো হলেও এখনো ভর্তুকি অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘ অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

একই দিন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভার বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, সামনে বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য বন্যা ও প্লাবন মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সরকারের চলমান খাল খনন কর্মসূচির ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৭ এপ্রিল যশোরে এবং ২ মে সিলেটে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।