তৃণমূল বিএনপির বেপরোয়া কর্মকান্ডে ম্লান হচ্ছে সরকারের সাফল্য

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ন, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩১ অপরাহ্ন, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত
  • রাজধানীর মহল্লা জুরে  চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার।  শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনের নামে মিরপুর জুড়ে চাঁদাবাজি
  • মোহাম্মদপুর এলাকা এখন  বাহিনীর নিয়ন্ত্রণহীন। 
  • দল থেকে বহিষ্কার ও মামলার পরেও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চলছেই 
  • প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে  চাঁদাবাজ ও বেপরোয়া নেতাদের তালিকা হচ্ছে। 

মাত্র দুই মাসেই নতুন সরকার একের পর এক সাফল্যজনক উন্নয়ন ও কল্যাণমুখী কর্মকান্ড শুরু করলেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের বেপরোয়া আচরণে অনেকটাই ম্লান হচ্ছে সরকারের সাফল্য। মামলা গ্রেপ্তার ও দল থেকে বহিষ্কার করেও কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না তৃণমূলের বেপরোয়া নেতাকর্মীদের। রাজধানীর মিরপুর মোহাম্মদপুর এলাকা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণহীন। মহল্লাভিত্তিক  চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে। 

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বেপরোয়া কর্মকাণ্ড ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, দখলদারি, দলীয় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো অভিযোগের কারণে বিব্রত দলের হাইকমান্ড। এরইমধ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। কেউ কেউ আবার হয়েছেন দল থেকে বহিষ্কার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রবল সমালোচনা করলেও চাঁদাবাজির অভিযোগে যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে সরকারপ্রধান  ও প্রশাসন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবুও থামছে না তৃণমূল বিএনপি। জড়িয়ে পড়ছে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে। গোয়েন্দা তথ্য  পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই ফোন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলের প্রভাব খাঁটি য়ে চাঁদাবাজি সহ অপকর্ম করা নেতাদের তালিকা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। 

আরও পড়ুন: সোমবার কারামুক্তিতে ই-বেইল বন্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জানা গেছে, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান পরবর্তী ত্রয়োদশ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে দলটি। জনগনকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এরইমধ্যে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন দলীয়প্রধান। গত ১৬ মার্চ থেকে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এক হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করবে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির আওতায় জুন ২০২৬ পর্যন্ত আরও এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও সংস্কার করা হবে। একইসঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুনঃখনন করা হবে। পাশাপাশি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এক কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে। এসব চারা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ কর্মসূচি চলমান থাকবে। সরকারের এসব কল্যাণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিদিন সকাল 9 টা গভীর রাত পর্যন্ত টানা ১০ থেকে ১৫ ঘন্টা অফিস করছেন। তবে সব কিছুকে ভণ্ডল করে দিতে দলের কিছু নেতাকর্মী একের পর এক অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন। যার পুরো দায়ভার দলকেই নিতে হচ্ছে। বিএনপির হাইকমান্ড এসব নেতাকর্মীকে নিবৃত করার জন্য কঠোর অবস্থান নেয়ার পরও থামানো  যাচ্ছে না তাদের।। যার পুরো দায়ভার দলকেই নিতে হচ্ছে। তবে বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানান, জিরো টলারেন্স নীতিতে এগোচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এরই মধ্যে সারাদেশে সাত হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার, শোকজ, পদাবনতিসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেকের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা তুলে নেয়া হলেও নিজেকে শোধরাতে পারেননি। তারা আগের মতো অপকর্মে নিজেদের জড়িয়ে দলকে বিব্রত করছে। বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বহিষ্কার করা হচ্ছে বিতর্কিতদের। 

সংশ্লিষ্ট্ররা মনে করছেন, বিএনপির একটি বড় রাজনীতিক দল। তাই বিএনপির প্রতি জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। কিন্তু গুটিকয়েক সুবিধাবাদী বিপথগামীর দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা ধরনের অপকর্মের অভিযোগ বিএনপির ঘাড়ে জোরালোভাবে চেপে ধরেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এখন পর্যন্ত বিএনপির একশ্রেণির নেতাকর্মী চাঁদা দাবি ও দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে।হাট বাজারে ইজারা,বালু মহল জলমহল ও সরকারি কাজ জায়গা দখলবাজি চলছে।  এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা, দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও কোনোকিছুতেই থামানো যাচ্ছে না দলের একশ্রেণির বেপরোয়া নেতাকর্মীকে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি ও সাংগঠনিক বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে দল ও অঙ্গ সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর অপকর্ম অব্যাহত রয়েছে। এসব কারণে সারা দেশে সমালোচনা, জনমনে ক্ষোভ ও হতাশার কারণে প্রচণ্ড চাপে পড়েছে বিএনপি।

আরও পড়ুন: জ্বালানি সাশ্রয়ে হাইকোর্টে আংশিক ভার্চুয়াল বিচারকার্য শুরু

শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনের নামে মিরপুর জুড়ে চাঁদাবাজি: রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকের অভিযোগ গত এক মাসে সন্ত্রাসীদের পৃথক ছয়টি গ্রুপ চাঁদা দাবি করে আসছেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও মিরপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মফিজুর রহমান মামুনের পরিচয় দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। তাদের নির্ধারিত টাকা দেওয়া না হলে ওই প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে করে তারা আতঙ্কিত। সম্প্রতি পল্লবীর ১০ নম্বর সড়কের ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এক্সট্রিম সাইবার জোনে শীর্ষ সস্ত্রাসী মোক্তাদের নাম বলে চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়া ওই প্রতিষ্ঠানটিতে ককটেল ছুড়ে ব্যবস্থাপক জিসানকে আহত করে সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় লোকজন মো. রাজু নামের ওই হামলাকারীকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। তখন রাজু জানান, তিনি পেশায় রিকশাচালক। পাঁচ হাজার টাকার চুক্তিতে এই ককটেল ছুড়েছেন। পরে পুলিশ জানতে পারে, প্রতিষ্ঠানটি থেকে চাঁদা না পাওয়ায় ওই রিকশাচালককে দিয়ে হামলা করান পল্লবী এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মোক্তার হোসেন। এই দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে এখন মামুন ও তার লোকজনের দাপটে আতঙ্কিত মিরপুরের ব্যবসায়ীরা। গত তিন মাসে অন্তত দুই ডজন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করেছে বিদেশে অবস্থান করা সন্ত্রাসী এই মামুন। বিদেশ থেকে প্রতিনিয়ত ফোনে  ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা চেয়ে হুমকি দিচ্ছেন পল্লবী থানা বিএনপির ৯১ নম্বর ওয়ার্ড (সাংগঠনিক ওয়ার্ড) কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন এখন মিরপুর এলাকার আতঙ্ক। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই শীর্ষ সন্ত্রাসী বিএনপির নেতা পরিচয়ে ভয়ংঙ্কর হয়ে উঠেছেন। বিদেশি একটি নম্বর থেকে ব্যবসায়ীদের নিজে ফোন করে চাঁদা দাবি করেন। আবার কারও কারও কাছে সহযোগীদের পাঠিয়ে চাঁদা দেওয়ার তাগাদা দিচ্ছেন। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

আল আমিন শান্তর বিরুদ ব্যবস্থা নিচ্ছে না ছাত্রদল: রাজধানীর বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আল আমিন হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। উত্তরা এলাকায় অর্থ লুট, চাঁদাবাজি, দখল, মারামারি থেকে শুরু সব ধরনের অপরাধে তার নাম জড়িত। ৫ আগস্টের পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে শান্ত একের পর আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের পর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে মারধর করার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবন, বিভিন্ন মালামালের গাড়ি ও স্থানীয় দোকানপাট থেকে চাঁদা তোলার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণখান বাজার দিয়ে মালামাল নিয়ে গাড়ি গেলে তাকে চাঁদা দিতে হয়। এসব নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এর মধ্যে বিমানবন্দরের এলডি তেলের পাম্পের স্টাফদের মারধর করে পাম্পের ক্যাশ থেকে ৯০ হাজার টাকা লুট করায় গত ৭ মার্চ উত্তরা পূর্ব থানায় আল আমিন হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণখানে স্যুয়ারেজ লাইনের মাটি বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতা রাসেলসহ সংগঠনটির তিন নেতাকে মারধর করায় দক্ষিণখান থানায় ৪ এপ্রিল আরেকটি মামলা হয়েছে। তবে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। এমনকি একের পর এক সংগঠনবিরোধী কার্যকালাপে জড়িত হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তবে আল আমিন হোসেন শান্তর অপকর্মের পেছনে শেল্টারদাতা হিসেবে কাজ করছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ। তার আশকারা পেয়ে এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন শান্ত। যখনই অন্যায় করেন তখনই ঢাল হয়ে দাঁড়ান তিনি। পেট্রোল পাম্পে হামলার ঘটনায় বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শান্তর ব্যবস্থা নিলে আজ হয়তো এই মারামারির ঘটনা ঘটতো না। শান্তর অন্তত দুটি ঘটনায় ছাত্রদল এবং বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই নিয়ন্ত্রণহীন। সরকার গঠনের পর কিছুদিন ভালো চললেও এখন সন্ত্রাসীদের বিকল্প শাসনে চলছে। পাশাপাশি পুলিশের অভিযানো চলছে। 

জায়গা-জমির বিরোধে কলেজ শিক্ষককে ছাত্রদল নেতার মারধর: ঝিনাইদহে জায়গা জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়ির পাশে গাছ কাটায় বাধা দেয়ায় এক কলেজ শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় কলেজ শিক্ষককে রক্ষা করতে এগিয়ে আসায় কয়েকজন নারীকেও মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার ছোট কামারকুণ্ডু গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষক মনোয়ার হোসেন ঝিনাইদহের আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক। এ ঘটনায় তিনি রাতেই ঝিনাইদহ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সমিনুজ্জামান সমেনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদশিরা জানান, জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি একটি জমির গাছ কাটতে শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে মনোয়ার হোসেন সেখানে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে ছাত্রদল নামদাবি সন্ত্রাসীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সমিনুজ্জামান সমেনসহ কয়েকজন নেতা নারীকে মারধর করার অভিযোগ এবং মারধরের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির আঙ্গিনায় কয়েকজন নারীকে ধরে টানাটানি ও একাধিক চড়-থাপ্পর দিচ্ছে ছাত্রদল নেতাও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা। এ সময় নারীরা নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে। তবে এ বিষয় অভিযুক্ত ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সমিনুজ্জামান সমেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মনোয়ার হোসেন বলেন, বাড়ির আঙ্গিনায় গাছ না কেটে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানালে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা তারউপর অর্তকিতভাবে হামলা চালায়। তার অভিযোগ, তার স্ত্রীসহ বাড়ির কয়েকজন নারী তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে নারীদের ও মারধর ও লাঞ্চিত করে সন্ত্রাসীরা। তবে জমির মালিক দাবি করা দাউদ হোসেন বলেন, আদালতের রায় থাকার পরও প্রতিপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে। তবে অভিযুক্ত সমিনুজ্জামান সমেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি সামসুল আরেফিন বলেন, দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।। ১৩ এপ্রিল দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণ যদি ব্যাংক থেকে তাদের আমানত তুলে নিতে শুরু করে এবং প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো কমিয়ে দেয়, তাহলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে এবং তারল্য সংকট দেখা দেবে। এর ফলে অরাজকতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ব্যাংকিং খাত নিয়ে তিনি বলেন, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দেয়ার পর গ্রাহকেরা টাকা তুলতে পারেননি। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যেখানে অর্থ পাচারকারীদের মালিকানা সীমিত করার কথা বলা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার সেটি শিথিল করে ৭ শতাংশ শেয়ার থাকলেই পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ দিয়েছে। এটা পরিষ্কার যে তারা নিজেরা নিজেদের সঙ্গে মুনাফিকি করছে।