শ্রীপুরে ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে ৩০০ হেক্টর জমির বোরোধান ক্ষতিগ্রস্ত, ভেঙে গেছে ৪০০ বসতবাড়ি

Sanchoy Biswas
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ন, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৬:১৩ পূর্বাহ্ন, ১৫ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে কালবৈশাখী ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে এক হাজার কৃষকের ৩০০ হেক্টর জমির বোরোধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির ধানের পরিমাণ ১,৮০০ টন। প্রচণ্ড ঝড়ে ৪০০ বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বসতবাড়ি উড়ে গেছে ৪০টি পরিবারের। এছাড়াও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মাঠ পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। জমির ৯০ শতাংশ ধান পড়ে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম বাপ্তা, বেইলদিয়া ও নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের প্রতিটি ফসলের মাঠ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোরোধানের খেতে একটি ধানও অবশিষ্ট নেই, সব পড়ে গেছে। বহু বসতবাড়ির ঘরের চাল উড়ে গেছে। বেশিরভাগ বাড়ির টিনের টিন ফুটো হয়ে গেছে। গাছপালা ভেঙে ঘরের ওপর পড়েছে। আহত হয়েছে কয়েকজন। বিভিন্ন শাকসবজি খেত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধুনিক উপশহর গড়ার স্বপ্ন কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, গতকাল থেকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। তিনটি গ্রামের ৩০০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদিত ধানের পরিমাণ ১,৮০০ টন। সাড়ে ৩০০ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরোপুরি উড়ে গেছে ৪০টি বসতবাড়ি। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক-কৃষাণীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সহযোগিতা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে স্থানীয় সাংসদকে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনসহ তাদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কৃষক-কৃষাণীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের জন্য ঢেউটিনসহ ঘর নির্মাণের সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মিলন মেলা ও র‍্যালি

গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, তিনটি গ্রামের একজন কৃষকও নেই যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এত বেশি ক্ষতি হয়েছে তা বলার ভাষা নেই। সকাল থেকে শত শত বিঘা জমি পরিদর্শন করে দেখেছি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মানুষের বসতবাড়ি ঝড়ে উড়ে গেছে। ইতিমধ্যে উপজেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক-কৃষাণীদের তালিকা তৈরি করতে। সকল ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক-কৃষাণীদের সহযোগিতা করা হবে।