তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি, দেড় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে ৮ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে সরকার। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কমিটি তাদের সুপারিশ ও কর্মপরিকল্পনাসহ প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিস্তা অববাহিকার সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোনের তার চুরি: চোরাই মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা অববাহিকায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞরা কাজ শুরু করেছেন এবং নবগঠিত ৮ সদস্যের কমিটিও স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: আগের দামেই বিদ্যুৎ পাচ্ছেন লাইফলাইন গ্রাহকরা
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সরকার আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রকল্পটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি, যার সম্ভাব্য ব্যয় ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। প্রয়োজনে কারিগরি সহায়তা গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার দৃশ্যমান অগ্রগতি দ্রুত সময়ের মধ্যে জনগণের সামনে তুলে ধরতে সরকার কাজ করছে। প্রকল্পের আওতায় ব্যারেজ ব্যবস্থাপনা ও পানি সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন কারিগরি বিষয় পর্যালোচনার জন্য পৃথক টিম গঠন করা হয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল তিস্তা এলাকা পরিদর্শনে যাবে বলেও তিনি জানান।





