‘ঢাকা আর বাসযোগ্য মনে হয় না, অন্য শহরে গিয়ে থাকতে চাই’
রাজধানী ঢাকার বায়ু, পানি ও পরিবেশদূষণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা শহরকে আর বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতে দেশের অন্য কোনো শহরে বসবাসের কথা ভাবছেন তিনি।
শনিবার (৬ জুন) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই: জাতিসংঘ
মির্জা ফখরুল বলেন, রাজধানীতে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সাধারণ মানুষ প্রকৃতপক্ষে কতটা সুফল পাচ্ছে, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। নগরকে বাসযোগ্য করতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “আজকাল আমার নিজেরই মনে হয়, আমি ঢাকা শহরে থাকব না। দেশের অন্য কোনো শহরে গিয়ে বসবাস করব। কারণ, এই শহরকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না।”
আরও পড়ুন: ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন
নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে দূষণের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ঘর থেকে বের হওয়ার পর মানুষ যে বাতাস গ্রহণ করছে সেটিও দূষিত। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবার মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিবের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও জনমুখী করে তুলতে না পারলে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, তা বাস্তবে রূপ নেওয়া কঠিন হবে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে বিশুদ্ধ বায়ু, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ নাগরিকদের মধ্যে ইতিবাচক সচেতনতা সৃষ্টি করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শুধু সাধারণ মানুষকে সচেতন করলেই হবে না; নগর পরিকল্পনা, উন্নয়ন কার্যক্রম ও সেবা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক এবং দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, সিটি করপোরেশন একটি স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের উন্নত নগরগুলোতে নির্বাচিত মেয়র ও শক্তিশালী স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নগর পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতা, দূরদর্শিতা এবং জনকল্যাণমূলক চিন্তার ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রয়োজন রয়েছে।





