সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সাশ্রয় প্রযুক্তি শিখতে প্রশাসকের ফ্রান্স সফর অনুমোদন নয়, প্রকৌশলীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের ফ্রান্স সফরের প্রস্তাব অনুমোদন দেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নন এমন কর্মকর্তার বিদেশ সফরের যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে এ ধরনের প্রশিক্ষণ বা অধ্যয়ন সফরে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফ্রান্সভিত্তিক আউটডোর লাইটিং অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (এএলএসি) পরিদর্শন এবং বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী স্ট্রিট লাইটিং প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এ বি এম আসাদুজ্জামান সুইটের ফ্রান্স সফরের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সোমবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আরও পড়ুন: পুশইন ঠেকাতে ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি দিয়েছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলী বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রস্তাবের ওপর দেওয়া অনুশাসনে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্ট্রিট লাইটিং প্রযুক্তি বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান সরাসরি সিটি করপোরেশনের কাজে লাগাতে পারবেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী। তবে প্রশাসক প্রকৌশলী না হওয়ায় তার সফরে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট নয়। প্রয়োজনে শুধু নির্বাহী প্রকৌশলীকে সফরের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন: পুশইন ইস্যুতে দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক শুরু
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
এর আগে মশকনিধন-সংক্রান্ত উদ্ভাবনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়নি। সে সময় প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, মশকনিধনের কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য বিদেশ সফরের প্রয়োজন নেই; দেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই উপযোগী সমাধান বের করা সম্ভব।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঈদুল আজহার আগে কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে করার একটি প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে নামকরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক এসব সিদ্ধান্তে সরকারি ব্যয়, প্রয়োজনীয়তা, পেশাগত দক্ষতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।





