বেবিচকের বিতর্কিত প্রকৌশলী হাসিবের পদোন্নতি, সমালোচনার ঝড়

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ন, ০২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিতর্কিত প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তিনি সুপারিনটেনডেন্ট (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে তাকে পদোন্নতি দিয়ে সুপারিনটেনডেন্ট করা হয়েছে। বিতর্কিত এই প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়ায় বেবিচকজুড়ে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে তিনি এই পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেবিচকের প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে তাকে সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (চলতি দায়িত্ব) দেওয়া হলেও শুধু অনিয়মের কারণে তার পদোন্নতি হয়নি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদক মামলাও দায়ের করে। মামলায় তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ৩৪ কর্মকর্তাকে সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি

জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গত বছরের ২১ থেকে ২৮ ডিসেম্বর তিনি তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও লন্ডন সফর করেছেন। বিষয়টি তিনি কর্তৃপক্ষকেও জানাননি।

ভ্রমণের সময় তার পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে তিনি কর্তৃপক্ষকে জানান এবং কর্তৃপক্ষের সহায়তায় গোপনে দেশে ফিরে আসেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা সবাই এ বিষয়ে পরবর্তীতে অবগত হয়েছেন, কিন্তু এখনও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি প্রতি ২/৩ বছর পরপর একজন কর্মকর্তাকে বদলি করার সরকারি নিয়ম থাকা সত্ত্বেও একজন চলতি দায়িত্বের কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে এখন পর্যন্ত ৪ বছর ধরে একই পদে আছেন। সম্প্রতি তাকে পদোন্নতি দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকার বিমানবন্দরে ৪৫ কোটি টাকার স্বর্ণ আটকে তোলপাড়

অভিযোগ উঠেছে, বেবিচকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে তিনি এই পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।

তিনি প্রতি ঠিকাদারের কাছ থেকে কমপক্ষে ৫% টাকা কমিশন আদায় করেন। ৫% টাকা বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত ওয়ার্ক অর্ডার দেন না বলে ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন। এভাবে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার মেয়েকে লন্ডনে লেখাপড়া করাচ্ছেন। সেখানকার পড়াশোনার খরচ বহন করতে হয় কোটি টাকারও বেশি।

গোপনে বিদেশ সফর করার পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তো দূরের কথা, তাকে পুরস্কৃত করে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেম্বার (প্রশাসন) লাভলুর রহমানের আশীর্বাদে তিনি সকল অন্যায়-দুর্নীতি করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে আমিনুল হাসিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি।