জেআইসিতে তারেক রহমানকে নির্যাতনের তথ্য পেয়েছে ট্রাইব্যুনাল: চিফ প্রসিকিউটর

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২:২৬ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৩ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) বন্দি থাকা অবস্থায় ১/১১-এর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। সাক্ষীদের বক্তব্য ও ট্রাইব্যুনালের তদন্তে এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ডিজিএফআই সদর দপ্তরে অবস্থিত জেআইসি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারক, প্রসিকিউশন ও সংশ্লিষ্টদের একটি দল এদিন জেআইসি পরিদর্শন করে।

আরও পড়ুন: দায়িত্বে গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন: রিজভী

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই আয়নাঘর নামে পরিচিত জেআইসি পরিদর্শন করা হয়েছে। এই স্থানে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আটক করে দীর্ঘ সময় বন্দি রাখা এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। পরিদর্শনের মাধ্যমে সেই সময়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি জানান, জেআইসির মতো গোপন বন্দিশালায় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ অনেককে দীর্ঘদিন আটক রাখা হয়েছিল। ১/১১-এর সময় তারেক রহমানকেও জেআইসির একটি কক্ষে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে সাক্ষ্য ও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: ড্যাবের চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে টিএফআই, জেআইসি বা আয়নাঘরের মতো কোনো গোপন বন্দিশালা যাতে গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। তবে আইন প্রয়োগের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অযথা হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে আয়নাঘরকে টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল অভিযোগ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ভিন্নমতের অনেক মানুষকে গুম করে এসব গোপন বন্দিশালায় রাখা হতো। তাদের মধ্যে অনেকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, টিএফআই ও জেআইসিতে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া চলমান। এসব ঘটনায় জড়িত অনেক কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্তে ভবিষ্যতে নতুন কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আইনের মুখোমুখি করা হবে।