চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১:২৭ পূর্বাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

 চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ আলোচনা ও দর-কষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: নভেম্বরের শেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনার আওতায় চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি সিস্টেম সংগ্রহের উদ্যোগ চলছে।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া গেলে এসব সরঞ্জাম কেনার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী অর্থবছরের বাজেটে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড়ে অটোরিকশা চালকদের সড়ক অবরোধ

জে-১০সিই ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে এমআরসিএ, জে-১০সিই ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার জন্য নেগোসিয়েশন মিটিংয়ের খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এর অর্থ, জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে।

চীনের জে-১০ যুদ্ধবিমানের সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে এ যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার দাবি, বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চীনের তৈরি জে-১০ মাল্টি রোল ফাইটার ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।

তিনি বলেন, রাফালকে ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে জে-১০ বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সক্ষমতার প্রমাণ দেওয়ায় বাংলাদেশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের মতো ইউরোপীয় যুদ্ধবিমানের তুলনায় একই ধরনের সক্ষমতার চীনা ফাইটার তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। তাই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যয় ও কার্যকারিতা—দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতির ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ এখন বৈদেশিক ও সামরিক নীতিতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। জে-১০সিই কেনার বিষয়ে আলোচনাও এরই অংশ।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের আগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব ছিল না। বর্তমানে বাংলাদেশ নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। এ কারণেই অনেকে বর্তমান সময়কে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ হিসেবে অভিহিত করছেন।