‘মক্কা চুক্তি’ আলোচনার মধ্যে সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:১৭ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৮ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং সম্ভাব্য ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি চিঠি হস্তান্তর করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জেদ্দায় ২৩তম ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি সৌদি যুবরাজের কাছে প্রধানমন্ত্রীর চিঠিটি হস্তান্তর করেন।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সফরের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও উচ্চ পর্যায়ের সফরের সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: ৬৪ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সৌদি আরবের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর বাড়তে থাকা আগ্রহের কথা উল্লেখ করে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় সৌদি আরবের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানেরও প্রশংসা করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তাকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ আবদুল করিম আল-খারেজি, ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘মক্কা চুক্তি’ বিশ্বের মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, মক্কা চুক্তি তিনটি দেশের মধ্যে হয়েছে। বাংলাদেশ বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তবে এতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়টি এখনো সামনে আসেনি। এটি নির্ভর করবে চুক্তির সদস্য দেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর।

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি গত ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে অন্য সদস্য দেশগুলোর ওপর হামলা হিসেবেও বিবেচনা করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তির তিন দেশ যদি বাংলাদেশকে এতে যুক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে সরকার। তবে চুক্তিটি আরও বিস্তৃত হলে এবং এটি মুসলিম বিশ্বের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করলে বিষয়টি মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।