ভালো কাজের মূল্যায়ন করতে হবে: ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:২৩ অপরাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভালো কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘সম্মাননা ও ইনসিগনিয়া প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: দাপ্তরিক গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে বিএসএফআইসির প্রশিক্ষণ কর্মশালা

অনুষ্ঠানে সারা দেশে অপারেশনাল কাজে বিশেষ সাহসিকতা প্রদর্শনকারী বাছাই করা ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ‘মহাপরিচালকের প্রশংসা’ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অপারেশনাল ও প্রশাসনিক কাজের বিভিন্ন মানদণ্ডে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত ২৮টি শ্রেষ্ঠ ফায়ার স্টেশনের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

এছাড়া সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ১৪ জন ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টরকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন মহাপরিচালক।

আরও পড়ুন: তিন বছরে বন্ধ চার শতাধিক গার্মেন্টস, তৈরি হচ্ছে তালিকা: বাণিজ্যমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক উপস্থিত হলে তাকে সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানান পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার, পিএসসি। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করেন ধর্মীয় শিক্ষক মুহাদ্দিস কাজী শরিফ উল্লাহ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন)। পরে মহাপরিচালক পর্যায়ক্রমে নির্বাচিত ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে ‘মহাপরিচালকের প্রশংসা’ লেখা ইনসিগনিয়া, সনদপত্র ও অর্থ সম্মাননা তুলে দেন। এরপর ২৮টি শ্রেষ্ঠ ফায়ার স্টেশনের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

পুরস্কারের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচটি করে এবং অন্যান্য বিভাগের তিনটি করে শ্রেষ্ঠ ফায়ার স্টেশন রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সারাদেশে প্রত্যেক বিভাগে কমিটি গঠনের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ ফায়ার স্টেশন বাছাই করা হয়। এ সময় পাম্প ড্রিল, ডেলিভারি হোজ লে-আউট, ফায়ারফাইটিং স্যুট ও বিএ সেট পরিধান, কুইক ড্রেস, উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতি পরিচালনায় দক্ষতা এবং লেডার ক্লাইম্বিংসহ বিভিন্ন অপারেশনাল দক্ষতা বিবেচনায় নেওয়া হয়।

এ ছাড়া সম্মিলিত ড্রিল, বিভিন্ন রেজিস্টার সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, মহাপরিচালকের নির্দেশনা রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্তি, দৈনন্দিন কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, স্টেশনের জ্বালানি হিসাব, পদ্ধতি যাচাই, সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ, নিয়মিত গণসংযোগ ও টপোগ্রাফি, স্টেশনের শৃঙ্খলা, বদলি ও সংযুক্ত আদেশ বাস্তবায়ন, স্টেশন ও ব্যারাক ভবনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জ্ঞানকে বাছাইয়ের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে মহাপরিচালকের প্রশংসা পাওয়া তিনজন এবং সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। রাজশাহী জেলার উপসহকারী পরিচালক ফরহাদ হোসেন অভিনব এ প্রতিযোগিতা আয়োজন ও পুরস্কার চালুর জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর খালেদা ইয়াসমিন পদোন্নতি পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

পরে বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক (অপাঃ ও মেইনঃ) লে. কর্নেল মোঃ মাহমুদুল হাসান, পিএসসি। তিনি ফায়ার সার্ভিসের সদ্য মৃত্যুবরণকারী একজন ড্রাইভার ও একজন ইন্সপেক্টরকে স্মরণ করেন।

পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ শহীদ আতাহার হোসেন তার বক্তব্যে মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানান এবং ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক সারা দেশের বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের অপারেশনাল কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। সেবার মান আরও বৃদ্ধি করতে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক, ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অধিদপ্তর ও বিভিন্ন বিভাগের উপপরিচালকসহ ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভাগ ও জেলার বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।