এসএসসি পুনর্মূল্যায়নে ফেল থেকে পাস, শিক্ষকদের জবাবদিহিতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩১ অপরাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। খাতা মূল্যায়নে যেসব অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, সেসব খাতার পরীক্ষকদের শনাক্ত করে প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন নিয়ে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, পুনর্মূল্যায়নের সময় যেসব খাতায় ভুল বা দুর্বলতা ধরা পড়েছে, সেগুলোর পরীক্ষকদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যিনি খাতা দেখেছেন, সে খাতা কোন একজনের দেখেছেন—এটা শনাক্ত হয়েছে। তাদের ট্রেনিং এবং জবাবদিহিতা—এটা করতেই হবে।”

আরও পড়ুন: আদালতে পুলিশ সদস্য ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে জানানো হয়েছে। ফল প্রকাশের পর পুনর্মূল্যায়নের জন্য ১২ লাখ ৮৬ হাজার আবেদন জমা পড়ে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। পুনর্মূল্যায়নের পর ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড এবং ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবারই প্রথম আইনে খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে। এর আগে মূলত ট্যাবুলেশন শিটে নম্বর যোগের বিষয়টি যাচাই করা হতো। এবার পরীক্ষার পুরো খাতা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গণমাধ্যমের সুরক্ষায় অংশীজনদের সুপারিশ আমলে নিয়ে খসড়া প্রণয়ন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বড় সংখ্যায় ফল পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট খাতাগুলোতে পরীক্ষকদের কী ধরনের দুর্বলতা ছিল, তা যাচাই করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। মূল্যায়নে যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পরবর্তীতে জানানো হবে।

খাতা মূল্যায়নে দুর্বলতার পাশাপাশি স্বজনপ্রীতি বা কোনো ধরনের ম্যানিপুলেশন হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ অক্টোবর দেশের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রত্যেক শিক্ষককে নগদ এক লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হবে।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন বলে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকের শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বদলি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। চলমান প্রক্রিয়ার কিছু বিষয় নিষ্পত্তির জন্য বদলি করতে হচ্ছে।

তবে ভবিষ্যতে বদলিতে অনিয়ম ঠেকাতে অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।