বিনিয়োগকারীর স্বার্থে পুঁজিবাজারে নজরদারি জোরদার, ইউনাইটেড গ্রুপসংশ্লিষ্ট লেনদেন তদন্তে বিএসইসি

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ন, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪১ অপরাহ্ন, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নজরদারি আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর অংশ হিসেবে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ইউপিজিডিসিএল), খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল) ও অন্যান্য কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কথিত ইনসাইডার ট্রেডিং ও বাজার কারসাজির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

বিএসইসির ৭ অক্টোবর জারি করা সংশোধিত আদেশে ইউনাইটেড গ্রুপের চিফ অ্যাডভাইজার হাসান মাহমুদ রাজা এবং ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের (ইউইসিএল) চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের সংশ্লিষ্টতাসহ এ-সংক্রান্ত লেনদেনে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: লাখো শিশুর ‘হাহাকার’

বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন— কমিশনের যুগ্ম পরিচালক জিয়াউর রহমান ও সহকারী পরিচালক আলী আহসান। সংশোধিত আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের পরিদর্শন, অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখার আদেশে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন বলে কমিশন মনে করে।

আরও পড়ুন: নতুন পদ্ধতিতে ফিরছে গ্রাম সরকার

তদন্তে এম এম হাবিবুল্লাহ ও নুরুজ্জামান জিন্নাহর দেওয়া আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই করা হবে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অন্য ব্যক্তির নামে পরিচালিত বিও ও ট্রেডিং হিসাব ব্যবহার করে কথিত ইনসাইডার ট্রেডিং, বাজার কারসাজি এবং প্রকৃত মালিকানা গোপনের বিষয়।

ইউইসিএল, এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, মালিকানা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, আত্মীয়স্বজন, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সহযোগীদের নামে থাকা প্রাসঙ্গিক বিও, ট্রেডিং ও ব্যাংক হিসাবও খতিয়ে দেখা হবে। এসব হিসাব প্রকৃতপক্ষে কারা পরিচালনা করেছেন এবং কারা সেগুলো নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহার করে সুবিধা পেয়েছেন, তা নির্ধারণের চেষ্টা করবে তদন্ত কমিটি।

সংশ্লিষ্ট শেয়ার কেনার অর্থের উৎস, অর্থের প্রবাহ ও ব্যবহারও তদন্ত করা হবে। বিশেষ করে ইউইসিএল অথবা ইউইসিএল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনো অর্থ স্থানান্তর হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শেয়ার, লভ্যাংশ ও অন্যান্য আয় বা প্রাপ্ত অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে প্রকৃত সুবিধাভোগী ও চূড়ান্ত প্রাপক নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট বিও হিসাবের মাধ্যমে কেনা শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল, তা যাচাই করবে। কোনো হিসাব, লেনদেন বা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ গোপন করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

ইউপিজিডিসিএল, কেপিসিএল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কৃত্রিম, সমন্বিত, প্রতারণামূলক বা কারসাজিমূলক লেনদেন হয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় থাকবে। পাশাপাশি কোনো গুরুত্বপূর্ণ অপ্রকাশ্য তথ্য ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট শেয়ার লেনদেন করা হয়েছিল কি না, হলে ওই তথ্য কার কাছে ছিল, কীভাবে তা আদান-প্রদান হয়েছে এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন— এসব বিষয়ও যাচাই করা হবে।

হাসান মাহমুদ রাজা ও মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের ভূমিকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট লেনদেনে এম এম হাবিবুল্লাহ, নুরুজ্জামান জিন্নাহসহ অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তাও তদন্ত করবে কমিটি।

তদন্তের আওতায় আসবে সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্যাংক, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড ও কার্যক্রমও। বিশেষ করে হিসাব খোলা ও পরিচালনা, শেয়ার কেনাবেচার আদেশ দেওয়া ও কার্যকর করা, অর্থ ও শেয়ার স্থানান্তর এবং লভ্যাংশ ও অন্যান্য অর্থের স্থানান্তরে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পরীক্ষা করা হবে।

তদন্ত কমিটি পুঁজিবাজারসংক্রান্ত আইন, বিধি, প্রবিধান ও নির্দেশনা লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তাও যাচাই করবে। এর মধ্যে ইনসাইডার ট্রেডিং, বাজার কারসাজি, প্রতারণা বা বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড, অননুমোদিতভাবে হিসাব পরিচালনা বা ব্যবহার এবং প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা গোপনের মতো বিষয় রয়েছে।

বিএসইসির এই উদ্যোগকে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা বাজারে আস্থার পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আদেশে তদন্তের নির্ধারিত বিষয়গুলোর বাইরে এ-সংক্রান্ত অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য সামনে এলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সূত্রঃ বাসস