দেশের ৮ বিভাগীয় সদরে হচ্ছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ন, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৬:২৭ অপরাহ্ন, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তের সক্ষমতা বাড়াতে দেশের আটটি বিভাগীয় সদরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ শনাক্ত করা, ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ এবং অপরাধ দমনে কেন্দ্র থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) লাইনসের দামপাড়ায় সাইবার পুলিশ কেন্দ্র ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকারের সহযোগিতায় নির্মিত ভবন ও পরীক্ষাগারটি পুলিশের প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তে নতুন সক্ষমতা যোগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা পেলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল খালেক

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা কোইকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ সহযোগিতার জন্য তিনি কোরীয় সরকার, দেশটির রাষ্ট্রদূত, কোইকার প্রতিনিধি ও সফররত প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুরু থেকেই একটি বিশেষায়িত পুলিশ সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল। গত ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: শীতের আগেই বাড়ছে অগ্নিকাণ্ড চারদিকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

নতুন ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচালনা করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় রাখা হবে।

অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও প্রতারণা সংঘটিত হচ্ছে। এমনকি শেয়ারবাজারে কারসাজির ক্ষেত্রেও সাইবার স্পেস ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অপরাধ শনাক্ত ও দমনে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রয়োজন। অপরাধের পরিবর্তিত ধরন মোকাবিলায় পুলিশকে আধুনিক পরীক্ষাগার, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে সক্ষম করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সিআইডির বিদ্যমান পরীক্ষাগার সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সিআইডি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই রাসায়নিক পরীক্ষাগার পরিচালনা করে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষা এবং প্রতিবেদন তৈরির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য নাশকতা, বিরোধী দলের আন্দোলন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে, তবে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই।

পুলিশের ওপর হামলা এবং আসামি গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অপরাধ দমনে কাজ করতে গিয়ে পুলিশ মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হয়। অপরাধীদের দমনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে গেলে কেউ আসামিকে সহায়তা করলে তার বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।