হঠাৎ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা

Sadek Ali
মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব
প্রকাশিত: ৮:০৫ পূর্বাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৯:২৩ পূর্বাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

* গুজব-অপতথ্য ছড়িয়ে অস্থিরতা চেষ্টাকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গোপন সংগঠন মনিটরিং হচ্ছে

* সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা আটক, কয়েকজন নজরদারিতে

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের মার্কেট এখন বাংলাদেশ

* উত্তরায় পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ

* বিদেশে অবস্থানরত গোষ্ঠীর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক

* সরকারকে চাপে ফেলতে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত চলছে: রিজভী

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকারবিরোধী তৎপরতা, নাশকতার আশঙ্কা ও দেশি-বিদেশি যোগসাজশের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অভিযোগ করছেন, একটি মহল দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারমধ্যে রয়েছে-পোশাকশ্রমিকদের দাবি-দাওযাকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, গ্যাস সংকটকে সামনে রেখে আন্দোলন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে ব্যর্থ হিসেবে প্রমাণ করা এবং অর্থনীতি ও নিরাপত্তাহীনতার নাম বৃদ্ধিসহ সরকারবিরোধী নানা ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলন জোরালো করা। একইসঙ্গে এসব ইস্যুতে আন্দোলন চলাকালীন নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারকে বিপাকে ফেলার চক্রান্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। এরইমধ্যে দেশে সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাবেক দুইজন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে অর্থায়নের মাধ্যমে তারা নানা ষড়যন্ত্র করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। প্রসঙ্গত, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

অনেকে আত্মগোপনে আছেন। কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়ে কারা ভোগ করছেন। তাছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে সহিংসতার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার প্রক্রিয়াধীন। ভারতে অবস্থানরত দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে ইতিমধ্যে সাজা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দলটির যে কোনো ধরনের কার্যক্রম ও প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতেও আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে বসে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তারের চেষ্টা করছে। দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এ সংক্রান্ত নানান অপতৎপরতা সামনে আসছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও সরকারের তরফ থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

সরকারকে চাপে ফেলতে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত চলছে; বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করতে এবং এর উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে দেশ-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিশ্ববাজারে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে। বিগত সরকারের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশের ব্যাংক লুটের অর্থ বিদেশে নিয়ে বিলাসী জীবনযাপন এবং বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ করেন তিনি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদেশে পাচার করা এবং দেশে গোপন বুথ ও অর্থ ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী নৈরাজ্য, বোমা হামলা ও নাশকতার পরিকল্পনা করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন খাতে জনদুর্ভোগ-সব মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ৫ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেছিলেন, কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিকল্প ও গ্যাস সংকটকে কাজে লাগিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সরকারের সামনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। প্রথমত, সহিংসতা ও নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক বিরোধিতা ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এক করে না দেখা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দল প্রকাশের অধিকার এবং জননিরাপত্তা-দুটোই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশে অবস্থানরত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক দেখা দেয়। সরকারপক্ষের কেউ কেউ বিদেশে থেকে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনার অভিযোগ তুললেও, নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সংগঠন বা রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠা করতে হলে আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের তথ্য, প্রত্যক্ষ প্রমাণ এবং তন্ত্রের ফলাফল প্রয়োজন।

অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী করা কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রকে ষড়য়ন্ত্রে জড়িত ঘোষণা করা কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং তথ্যাভিত্তিক অনুসন্ধান অপরিহার্য। সরকারের স্থিতিশীলতা শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে না; মূল্যমূল্য, কর্মসংস্থান, জ্বালানি সরবরাহ, বিনিয়োগ, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা থাকলে রাজনৈতিক অসন্তোষ বাড়তে পারে। আবার বাস্তব কোনো নাশকতার পরিকল্পনা থাকলে তা মোকাবিলায় গোয়েন্দা সংস্থার সক্ষমতা, পুলিশের পেশাদারিত্ব এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিস্ফোরণের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা মোকাবিলায় জুসের পরিবর্তে যাচাইযোগ্য তথ্যের ওপর নির্ভর করা জরুরি। নাশকতামূলক অভিযোগ থাকলে তদন্তের অগ্রগতি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ এবং আইন পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসাধারণকে যথাসময়ে স্বচ্ছভাবে অবহিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সচেতনমাধ্যম ও নাগরিকেরাও যাচাই না করা তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকা উচিত। অন্যদিকে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ উঠিয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে আগে প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের অর্থ রক্ষায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দিতার ঊর্ধ্বে উঠে সত্য উদঘাটন, আইনের শাসন এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে সরকার অঙ্গনসন্ত্রীর সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে মেইড করা হয়েছে। এ ঘটনাকে বাংলাদেশ সরকার 'অভ্যন্তরীণ সম্মান' হিসেবে দেখে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও তথ্যাদার উপদেষ্টা জামেল উদ রহমান। গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ভেতরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. ইউনূসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন লোক। তারা উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এসময় বিক্ষোভকারীরা তাঁকে উদ্দেশ্য করে 'ইউ আর এ টেরোরিস্ট' এবং 'মোজাই ইট কম হিয়ার' বলে চিৎকার করছিলেন। এছাড়া, বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগ তোলেন। পরে সঙ্গে থাকা সহযোগীর সহায়তায় সামনের দিকে এগিয়ে যায় ড. ইউনূস।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তথা ও সম্পর্কের উপদেষ্টা উলেদের উল রহমান। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়, (জুলাই) আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিও এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এটিকে সরকার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস হিসেবে দেখছে। জামেল উদ রহমান বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না। সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এর আগে হেলম্বার শিকার অভিনয়ে ঘটনায় আইনীন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে অর্থায়নের মাধ্যমে সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালানোর অভিযোগে সাবেক দুই সেনাকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জালী গুলশান আরা (৪৫) এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ (৪৫)। গত রবিবার রাতে ঢাকার পল্লবী ও বনানী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গত বছর ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের যে 'গোপন বৈঠক ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা' অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেটি সংক্রান্তে গ্রেফতার এই দুই সেনা কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র। গত বছরের জুলাই মাসের ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সেনাবাহিনীর মেজর মো. সাইকুল হককে চাকরিচ্যুত করে আইনের আওতায় আনা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত সোমবার এক বিবৃতিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষের বিরুদ্ধে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই এই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও রাজ্যত্র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছিলেন এবং 'বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র' করেছিলেন। এই অংশ হিসেবে, গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে তারা সহযোগীদের সঙ্গে মিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নানান 'সরকারবিরোধী প্রচারণা, উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার' করছিলেন। এসব কাজে জড়িত থাকার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনাধীন 'অবৈধভাবে অর্থায়ন' করার অভিযোগ রয়েছে গ্রেপ্তার হওয়া দুই সেনা কর্মকর্তার।

বর্তমানে ভাকরমানে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। গ্রেপ্তার দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইয়ের (র) সঙ্গে সম্প্রতি বল নকশা করেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক রুমানা. ভিন সায়েচ। সম্প্রতি তার ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, র-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে টুটে এসে, পরিএত টেরাসক গোষ্ঠীর পক্ষে তারা কিভাবে তারকা সংগ্রহ করছিলেন এবং গোপন হামলার ছক করছিলেন। গ্রেফতার হওয়া একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিযোজ্যপ্রাপ্ত সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের অনুজাপ্রাপ্ত কর্মচারীদের একজন। আজিজের মধ্যে বিজরিতের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের একটি চক্র পরিচালনা করতেন দেবাশীষ ও তার পিতা দয়াল চক্র পাল।

২০২৪ সালের আগস্টের পর দেবাশীষ কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সাবেক ও কর্মরত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। সম্প্রতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অভিযানে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক পাওয়ার গেল দেশে অনার ঘটনায় দেবাশীষের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। গ্রেফতার হওয়া অপরজন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা ২০০৬ সালে স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনী থেকে অবস্হ নেন। তোলপাড় সৃষ্টি করে দাবি, ভারতীয় হ্যান্ডলার ও দেবাশীষের সঙ্গে মিলে তিনি দেশব্যাপী সুয়েচ্ছদ নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন।

চলচ্চিত্রে 'র'-এর সাবেক স্টেশন চিফ রাজেশ কুমার অভিজাতের ঘনিষ্ঠ গুলশান আরা তার নির্দেশে অন্তত আটজন সেনা কর্মকর্তাকে হাতিয়েপে ফেলে। তিনি সহজেই সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতেন। সম্প্রতি তিনি বাণিজ্যালয় ভারতীয় হাইকমিশনের কার্যালয়ে মিনিস্টার (কনসুলার ও শিক্ষা) সুজয় রামকৃষ্ণ পিল্লাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। অন্যদিকে, বেতন বাড়ানোর দাবিতে রাজধানীর উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কায়েতলী পোশাক কারখানার এক হাজার বেশি শ্রমিক সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। যানবাহন আটকে থাকায় অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। বিক্ষোভের সময় শ্রমিকেরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো অথবা বেতন বাড়ানোর দাবিতে স্লোগান দেন। বিক্ষোভের শেষে শ্রমিক পরিবা বেগম বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে হবে, নয়তো জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বাড়াতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই রাস্তায় নেমেছি। উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোর্শেদ আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।