আলোচনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ
রিফাইন্ড থেকে নতুন করে রিকন্সিলিয়েশন
রিকনসিলিয়েশনের আগে অপরাধের স্বীকার ও অনুতাপ জরুরি – জাহেদ উর রহমান
আওয়ামী লীগের 'অপতৎপরতা' কঠোরভাবে দমন করা হবে – ডিবিপ্রধান
আরও পড়ুন: আবারো কঠোর অবস্থানে বিএনপি, এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশনা
গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর আত্মগোপনে চলে যায় দলটির নেতাকর্মীরা। তবে দীর্ঘ ২ বছরের বেশি সময় পর আবারও নতুন করে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগকে ঘিরে। এরমধ্যেই দলটির সাবেক নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক তৎপরতা, বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের উপস্থিতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে দলীয়ভাবে প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচি না থাকলেও নেতাকর্মীদের অনেকে নিজেদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দলটির স্থানীয় পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। দলীয় কার্যালয়গুলোতেও আগের মতো নেতাকর্মীদের আনাগোনা নেই। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে রয়েছেন বা প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে আছেন। তবে দলের সমর্থক ও সাবেক নেতাকর্মীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নানা মত রয়েছে। কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় দলটির প্রকাশ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকাই স্বাভাবিক। আবার কেউ মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও আইনগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে দলটির ভবিষ্যৎ। আবদুর রহমান নামে এক বাম ধারার রাজনীবিদ বলেন, রাজনৈতিক দল নিয়ে মানুষের আগ্রহ সবসময়ই থাকে। তবে কোনো দল বা সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন ও সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে চলা উচিত। সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন আহমেদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেই। ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তার সাংগঠনিক কাঠামো, নেতাকর্মীদের ভূমিকা এবং সমর্থকদের অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ ও আইনগত সিদ্ধান্তের ওপর। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বিরোধ বা মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই জননিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত না করে।
আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ বাড়ছে জনমনে
রিকনসিলিয়েশনের আগে অপরাধের স্বীকার ও অনুতাপ জরুরি: আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা বা রিকনসিলিয়েশনের ভিত্তি তৈরি হতে হলে দলকে প্রথমে তাদেরকৃত অপরাধের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে এবং এজন্য অনুতাপ প্রকাশ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রেসের আলাপেই তিনি এসব কথা বলেন। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, চুক্তিবদ্ধভাবে হলেও সত্য বলতে এজন্য একটি দলটিকে সমর্থন করে। সংক্ষিপ্তভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা ব্যক্তির সঙ্গে সমঝোতার উদ্দেশ্য নীতিগতভাবে ধারণ কিছু নয়, তবে তার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতি ও ক্ষেত্র প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সমঝোতার প্রাথমিক শর্তই হলো—যে পক্ষ বা রাজনৈতিক দল অপরাধ সংঘটিত করেছে, তাদের সেই অপরাধ বিশ্বস্তভাবে স্বীকার করতে হবে এবং তাদের ভেতর বঞ্চনামূলক আচরণ থাকতে হবে। কিন্তু অপরাধের স্বীকৃতি বিহীন কোনো সেউলারি অপরাধের দায় সরাসরি মাফ হতে পারে না; আইনের স্বাভাবিক গতিতে তাদের বিচার হতেই হবে।
উপদেষ্টা আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে দলটি বল ও তাদের দীর্ঘ নেতৃবৃন্দ আত্মগোপন প্রকাশ না করে বরং অহংকারভাবে নানা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে সমঝোতার বিষয়টি বিবেচনা করা কঠিন। তৃতীয় কোনো পক্ষের মতদ্বৈততার উৎসাহে প্রসরে তিনি বলেন, মাঝখান থেকে কেউ যদি রিকনসিলিয়েশনের চেষ্টা করতে থাকেন, তবে তাদের উচিত হবে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে কন্যা বলে সমঝোতার প্রাথমিক শর্ত বা মৌলিক ভিত্তি নিশ্চিত করা। সেই বিষয়টি স্পষ্ট হলে আলোচনা হতে পারে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী-সমর্থকদের সাথে পুর্ণমিলনের উৎসাহ দেওয়া প্রকাশ কোনো বার্তা নয়, বরং এমন উৎসাহ হতে ভালো হতো। তবে রিকনসিলিয়েশনের আগ্রহ এর মৌলিক ভিত্তি কী হবে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, মাঝখান থেকে কেউ যদি রিকনসিলিয়েশন হন এবং মনে করেন এটি ভালো উদ্যোগ, তাহলে আমার মনে হয় এটি ভালো। তাদের উচিত আওয়ামী লীগের সাথে যোগাযোগ করা। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সঙ্গে কন্যা বলে রিকনসিলিয়েশনের ওপর মৌলিক জায়গাটি নিশ্চিত করতে হবে। সেটি হলে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। জাহেদ উর রহমান বলেন, শুধু আলোচনার মাধ্যমে রিকনসিলিয়েশন শুরু করলেই হবে না। এর জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক শর্ত ও পারস্পরিক আত্মপক্ষ সৃষ্টি করা জরুরি। আওয়ামী লীগ সেই জায়গায় এগিয়ে এলে পুর্ণমিলন নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব। তখন উপদেষ্টা বলেন, পুর্ণমিলনের উদ্যোগ সফল করতে আওয়ামী লীগকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে।
দলটিকে নিজেদের দায় স্বীকার করতে হবে। এদিকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত প্রয়োজন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহারে রাজনৈতিক দলগুলো রিকনসিলিয়েশন বা পুনর্বাসনের প্রতিকৃতি তাদের বক্তৃতা তুলে ধরে। ইশতেহার ভিত্তিক দেশের ক্রাইসিস রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি তে জাতির আন্তর্জাতিক পাঠাতে চলছে আলোচনা। সরকারি দল বিএনপি তাহলে ৩৯ সদস্য ঘোষিত ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন’-এর আলোকে নির্বাচনী ইশতেহারে ট্রুথকেসিলিকেশন ও পুনর্বাসনমূলক মারিয়ার প্রতিষ্ঠার একটি ট্রুথ ও বিলিং কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইশতেহারে বলা হয় যে, এই কমিশন গঠনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনেরর দায় উদ্ঘাটন করার সকল প্রক্রিয়ার অপরাধীদের জনতায়ী ও শাস্তির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে যাঁরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, তাঁদের অর্থ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান বিরোধী দল-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ট্রুথসেসিলিকেশন ও পুনর্বাসনমূলক ট্রুথ ও বিলিং কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিধিও নিশ্চিত করতে ট্রাসফোর্স গঠন ও জাতিরূপে সংযুক্ত কার্যকারি সহায়তা প্রস্তুত করতে করা হয়। ইশতেহারে আরও বলা হয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গত ১৬ বছরে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও পুর্ণমিলনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে একটি ট্রুথ ও রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের কথা আলোচনা করেছে। বিএনপি ও জামায়াতের মতো তারাও আওয়ামী লীগ আমলের নানা সময়ে সংঘটিত অপরাধের সুনির্দিষ্টভাবে বিচার নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছে। তবে তাদের ইশতেহাদের নতুন দিক হলো, জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও সঙ্ঘাত-পরবর্তী দক্ষিণ অধিকার অর্জনে তার ট্রুথ ও রিকনসিলিয়েশন কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে।
এবিপির ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য আরেকটি দিক হতে প্রকাশ্য, বিভিন্ন কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আওয়ামী সমর্থক এবং সমর্থকদের মধ্যে যার চৌধুরীবাদী অপরাধে যুক্ত নয়, তাদের অপরাধ ও সম্পৃক্ততা স্বীকার ও ক্ষমা প্রকাশ সাপেক্ষে সামাজিক মার্জিয়েটসের মাধ্যমে সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি সেখানে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি বা জামায়াত-এবিপি জোটগুলোর প্রতিটি জোটের এখন পর্যন্ত যা কর্মসূচি, তা কি এ ধরনের পরিণত রাজনৈতিক ভাবনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, নাকি এগুলো শুধুমাত্র নির্বাচনে জয় ইশতেহারে ড্রুম এরেষা অন্ধবলেকামূলক কিছু সফলতাতে তাতে এবং প্রধানত দলটি রাজনৈতিক জয়ের নির্বাচনী ইশতেহারে সুত্র ‘উদ্বোধন মিটিং’ (নিবন্ধ) ও রিকনসিলিয়েশনের (পুনর্বাসনের জন্য কমিশন গঠনের উদ্বেগকে একটি অযৌক্তিক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করা যেতে পারে।
কারণ, এর মাঝে বাংলাদেশের নানা জুমের নির্বাচনে আগে টেকনিক্যাল ইনফফ নিয়ে এমন আলোচনা দেব্বী যায়নি। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য একটি ট্রুথ ও রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের জন্য প্রথম উদ্যোগ করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেছিলেন, গণহত্যা ও মানবাধিকারের অপরাধের মতো ঘৃণ্য অপরাধীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে। আর (অপরাধীরা) যে এ জাতির মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন, সেটিকে প্রতিষ্টা করা জন্ম হলেও ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন করতে হবে।
শুধু তাই নয়, সাবেক এই উপদেষ্টা সুয়েতিতকাল কলহগুলোর মধ্যে শুধু আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অপরাধের বিচারের ওপর জোর দিয়েছিলেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে নিচে গঠিত কোনো কমিশনে মাধ্যমে অগলাগী কি সমাজের সব রাজনৈতিক দলের মনে রিকনসিলিয়েশন বা পুনর্বাসনযোগ্যের আলাপ শুরু করা সম্ভব?
আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতা’ কঠোরভাবে দমন করতে ডিজিটালিয়ান ডিসেম্বরের সমাপ্ত রোতে কার্যালয় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের পারতে অপরাধল্যারা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিবের প্রশ্নের জবাবে বিডি এ কথা বলেন।
রিসেন্টমে শেখ হাসিনার দেশের ফেরার সহায়তা এবং এ নিয়ে আওয়ামী লীগের খেয়ো কর্মসূচি বা সফলতার আশ্বাসে রয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসিজিউলম বলেন, আইন অনুযায়ী বিভিন্ন ঘোষণা কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবে না। তিনি জানান, যাকে আইন দ্বারা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এরকম কোনো বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দেশে চালাতে দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে ডিবি অত্যন্ত অবস্থানে রয়েছে। শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের জনস্বত্ব, বিশেষ করে ঢাকা মহানগর এলাকার সাত করার বদলে, তাদের জনমালের নিরাপত্তা বিধান করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে আমরা সচেষ্ট, সজাগ রয়েছি। আমরা যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দেব।
তিনি জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বলে কাউকে ঠেকাতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ক্ষমতার বাক্সে। এ কারণে কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ড্রেন অভিযোগ চলছে।
প্রকৃত, অগপাতের মাধ্যমে স্বৈরাচারী অতীতে সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যাংশ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সার্বিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। আগের সরকারের তৈরি পথ ধরে সংক্ষুব্ধ কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সবার কর্মকাণ্ড বিচার যুদ্ধ মুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সরকারিভাবে (সংশোধন)। অগপাতের কনটেন্টগুলো হতে প্রকৌশলী জাতীয় সংসদ। এর ফলে দেশের প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। তবে, দলটি চাইলে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম ফিরিয়ে পেতে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০১৪ সালের ১১ মে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনে জারি করা অবশেষ গেজেট আকারে প্রকাশ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। তখন সংসদ অস্তিত্ব না থাকায় অন্তর্বর্তী অধিকার সংশোধন করে এক সংখ্যা নিতে সংবিধানে ১৩ (১) অনুচ্ছেদে দেওয়া অনবরত রাষ্ট্রপতি অবশেষ জারি করেন। পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। যার উত্তরাধিকারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অভিলক্ষে গত জুলাই (৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত ‘সংবিধানহীন (সংশোধন) বিল’ পাশ হয়। কিন্তু, প্রশ্ন ছিল বিগত স্বাক্ষরের সিদ্ধান্তেও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
এ অবস্থায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ তাদের কার্যক্রমে ফিরে আসতে চাইলে আইনি পথ অনুসরণ করতে পারেন বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মামন মামুদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে বল হিসেবে নয়, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে। তারা অর্থাগমের ফিরে চাইতে তাদের সম্বল অধিকার পদক্ষেপ হচ্ছে উচ্চ আদালতে রিট করা। সেই রিটে তাদের অনেক যুক্তি থাকতে পারে। এ সংক্রান্ত পথ রয়েছে।
তিনি বলে থাকেন, কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা কার্যকরী সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার প্রপাগন বিষয় সংক্রান্ত নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারবে বা সংস্থাটি রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে।
বিলে আরও বলা হয়েছে, উক্ত সংস্থা কর্তৃক বা উনার পক্ষে বা সমর্থনে যেকোনো প্রেস বিবৃতির প্রকাশনা বা মূদ্রণ কিংবা কর্মকাণ্ড, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা অথবা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সভার সম্মেলন আয়োজন বা জনসমক্ষে বক্তৃতা প্রদান নিষিদ্ধ করবে।
মাল্টিপার্টিজামী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা মঞ্জুর মোরশেদ বলেন, মিল পাস করে দলটির (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মূলতঃ আইন দিয়ে তো এসব নিষিদ্ধ করা যায় না। নাগরিকের স্টার পার্সনদের সংক্রান্ত করার সুযোগ সক্ষিরিতে মৌলিক অধিকার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। কাজেই এই আইন যখন আদালতে যাবে, তখন এটি বাতিল হবে। আইন করে এভাবে নিষিদ্ধ করতে সরকার করতে পারে না। সংবিধানে ৩৮ অনুচ্ছেদে নাগরিকগণের ‘সংগঠনের স্বাধীনতা’ মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই অনুচ্ছেদের নানা বাক্যে, ডানসুল ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তির উক্তন সমিতি বা সংঘ গঠন করার কিংবা এর সদস্য হওয়ার অধিকার থাকবে না, যদি-(ক) উহা নাগরিকের মোর পবিত্র, সামাজিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়,(খ) উহা ধর্মীয়, প্রাদী, সর্ব, নারী-পুরুষ, জন্মস্থান বা ভাষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়, বা (গ) উহা রাষ্ট্র বা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সংহতি বা জঙ্গি কার্য পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে গঠিত হয় বা (ঘ) উহা গঠন ও উদ্দেশ্য এই সংবিধানের পরিপন্থী হয়।





