বাংলাদেশে পরিকল্পিত সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি: রিজভী

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:০১ অপরাহ্ন, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৪ অপরাহ্ন, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

​বাংলাদেশে সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এই চক্রান্তের মাধ্যমে ভাষার মূল রূপ বদলে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যত চক্রান্তই হোক না কেন, এ দেশের মানুষের ভেতরেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে।

​শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে আয়োজিত "বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট : স্বরূপ সন্ধান" শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্য।

আরও পড়ুন: চাঁদাবাজি নির্মূলে শিগগিরই আসছে নতুন আইন: আইজিপি

​রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে পরিকল্পিতভাবে কিছু নতুন শব্দ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চর্চিত ও ব্যবহৃত শব্দগুলোকে বাদ দিয়ে নতুন নতুন রূপ চাপিয়ে দেওয়াটা সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতারই অংশ। খুন আর রক্ত কিংবা লাশের মতো সুপ্রতিষ্ঠিত শব্দগুলোর বদলে অন্য শব্দ বসানোর সূক্ষ্ম চেষ্টা আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু এই জাতির সংগ্রামের ইতিহাস আছে, ভাষার জন্য রক্ত দেওয়ার ইতিহাস আছে। ফলে যেকোনো সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিহত করার এক অদৃশ্য অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা এই জনগোষ্ঠীর রক্তে রয়েছে।

​ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, উনিশ শতকের তথাকথিত 'বেঙ্গল রেনেসাঁ' সামগ্রিক অর্থে কোনো পূর্ণাঙ্গ রেনেসাঁ ছিল না। এটি মূলত হিন্দু পুনরুত্থানবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে তৎকালীন সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম কৃষক সমাজের শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত থেকে যায়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রবাহ এবং ৪৭ ও৭১-এর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এ দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয় বা 'বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ' গড়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: মগবাজারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি

​বুদ্ধিজীবী সমাজের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি সংকটকালে একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী ফ্যাসিবাদের তোষামোদি করেছে। অতীতে হিটলারের পেছনে যেমন অনেক নামজাদা বুদ্ধিজীবী লাইন ধরেছিলেন, আমাদের দেশেও ফ্যাসিবাদের সময়ে তা দেখা গেছে। তাঁরা নিখোঁজ, গুম বা ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি। অথচ দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীরা চিরকাল মাটির মানুষের পাশে থাকেন এবং সত্য কথা বলেন।

​সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি ও বিএনপির প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ-গবেষক ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মুস্তফা মজিদ।

​সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও প্রখ্যাত চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম।

এছাড়া ​সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সাংবাদিক-কূটনীতিক গাজীউল হক, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাবেক সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, জাসাসের আহ্বায়ক ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক হেলাল খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রা।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান, ছাত্রদলের সহ সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদারসহ লেখক, কবি, সাহিত্যিক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, নির্মাতাসহ শতাধিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।