আগামী অর্থবছরের মধ্যেই স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:১৬ অপরাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৩ অপরাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আগামী অর্থবছরের মধ্যেই দেশের স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যসেবাকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, দেশের আট বিভাগে আটটি বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য ১৬ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও বিস্তৃত ও বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১৫১ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে ১৬ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার না হলে ক্ষমতায় যিনিই যাবেন হাসিনা হয়ে উঠবেন: নাহিদ ইসলাম

প্রস্তাবিত এসব হাসপাতালে বিশেষায়িত সেবার জন্য নির্দিষ্ট শয্যা রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর মধ্যে প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০টি, নবজাতকদের জন্য ২০টি এবং কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য ১০টি ডায়ালাইসিস শয্যা স্থায়ীভাবে বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের আট বিভাগে আটটি বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ক্যানসার গবেষণার উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন: বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের তৈরি মানসম্মত ওষুধ ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে সুনামের সঙ্গে রপ্তানি হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও বাংলাদেশের ওষুধের ব্যাপক উপস্থিতি তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের বছরগুলোতে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ খাতে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছিল।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, সুস্থ, স্বাস্থ্যবান ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব নয়।