বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন : শফিকুর রহমান

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ন, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২:৪৯ অপরাহ্ন, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নির্বাচনের সময় বিএনপি আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে জয়ী হওয়ার পর এখন দলটির সঙ্গে বেইমানির অভিযোগ উঠছে বিএনপির বিরুদ্ধে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: সরকারকে বিব্রত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছেন গোলাম পরওয়ার: রিজভী

শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি নতুন নতুন বয়ান তৈরি করে জামায়াতকে পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগ করছে। অথচ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চাওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নেওয়ার পর এখন কেন বেইমানি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের আরেক নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, বিএনপি অন্তত ৯৫টি আসনে হেরে যেত, আওয়ামী লীগের ভোটেই তারা জয় পেয়েছে।

জামায়াত আমিরের অভিযোগ, বিএনপির কিছু নেতা নিজেদের সাফল্যের পেছনে আওয়ামী লীগের সমর্থনের কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি।

আরও পড়ুন: সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল নেবে কেন: জামায়াত আমির

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ আসার অভিযোগ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি এ ধরনের অর্থ প্রবেশ ঠেকাতে না পারে, তাহলে অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ বন্ধ করবে কীভাবে? তাঁর ভাষ্য, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে অক্ষম সরকারের দেশ পরিচালনার অধিকার থাকা উচিত নয়।

করের বোঝা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সমালোচনা

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণকে কার্ড দেওয়ার কথা বলা হলেও কতজনকে এবং কখন তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা ও দুর্নীতির চাপ বেড়েছে, ফলে জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রবাসীদের দেশে ফিরে আসা, কর্মসংস্থান এবং দ্রব্যমূল্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। পঞ্চগড়ে কৃষকের কাছ থেকে চারটি লাউ এক টাকায় বিক্রির খবরের উদাহরণ দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, উৎপাদকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অথচ রাজধানীতে একই পণ্য কিনতে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হয়। তাঁর মতে, চাঁদাবাজির কারণে বাজারে এই বৈষম্য আরও বাড়ছে।

চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগ

চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শফিকুর রহমান। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় শুধু একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগ যথেষ্ট নয়; অপরাধের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারির কারণে বিএনপির নিজস্ব কর্মী-সমর্থকেরাও ভুক্তভোগী হচ্ছেন। তাঁর দাবি, সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে।

সাত মাসের সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াত আমির প্রশ্ন তোলেন, এত অল্প সময়ে কেন প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তিনি সরকারের প্রতি জনগণের সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

আন্দোলন নিয়ে জামায়াতের অবস্থান

নিজেদের কর্মসূচির বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী বা ১১-দলীয় জোটের দলীয় দাবি আদায়ের জন্য নয়, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা আন্দোলন করছে। এ দাবিগুলো বাস্তবায়নে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, তাঁরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চান না। কেউ যেন তাঁদের ওপর বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করেন, সে আহ্বানও জানান তিনি।

গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান দাবি করেন, ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়ে পরিবর্তন ও সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, জনগণ পুরোনো রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তে নতুন রাজনীতি দেখতে চান।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তাঁরা মাথা নত করবেন না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির।