নীতিগত বিরোধ থাকলেও দাবি আদায়ে মাঠে সরব ইসলামী দলগুলো

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:৫০ অপরাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫০ অপরাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দাবি আদায় ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে মিছিল-মিটিংয়ে বেশ সরব রয়েছে ধর্মভিত্তিক দলগুলো। ইসলামী দলগুলো ইমান-আকিদা নিয়ে নিজেদের মধ্যে নীতিগত বিরোধ থাকলেও ভিন্ন ভিন্ন দাবি আদায়ে মাঠে সরব সকল দলই। তবে খতমে নবুয়ত ও কাদিয়ানীদের অমুসলিম এবং ইসলামবিরোধী আইন পাশের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে ইসলামী দলগুলো। আবার অন্যরা, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলো ঢাকাসহ সারাদেশে বড় ধরনের লংমার্চ-বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিলের মতো কর্মসূচি পালন করছে। তারা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে মাঠে সরব রয়েছে। তবে ধর্মীয় ইস্যু ছাড়াও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচি দিতে দেখা যায় ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে। বিবৃতির বাইরেও দলগুলো বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঠের কর্মসূচি ও নির্বাচনে অংশ নিতে দেখা গেছে। এছাড়া, পল্টনে দলটির কার্যালয়ে নিয়মিত আসেন কেন্দ্রীয়সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ধর্মভিত্তিক ও ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দাবি আদায়ে রাজপথে সক্রিয় এবং সরব রয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য এবং অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলো সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে টানা কর্মসূচি পালন করছে। তবে দেশের রাজনীতিতে নির্বাচন আসলেই ধর্মভিত্তিক দলগুলোর কদর বেড়ে যায়। তবে সাধারণ সময়ে তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটের মাঠে প্রভাব নিয়ে থাকে নানা সমীকরণ। জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এলে বড় রাজনৈতিক দলগুলো জোট গঠন বা নিজেদের পক্ষে ভোট টানার জন্য ধর্মভিত্তিক ছোট-বড় দলগুলোর প্রতি বিশেষ নজর দেয়। একইসঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পোক্ত করতে মাঝেমধ্যে ধর্মভিত্তিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও জোট গঠন করে, যা মূলধারার দলগুলোর মনোযোগ আকর্ষণ করে। তবে এদের থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন। তারা ধর্মীয় ইস্যুর বাইরেও বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে রাজপথে কর্মসূচি পালন করে থাকে, নির্বাচনেও নিয়মিত অংশ নিচ্ছে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যসেবা উন্নত না হলে প্রকৃত সমৃদ্ধি সম্ভব নয়: রিজভী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা বলেছেন, গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না করায় সরকার জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নের সুযোগ ছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন না করায় জনগণের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব বাড়ছে। গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কার কাউন্সিলের শপথ বা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সমালোচনা করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার চাইলে এখনো জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে নিজেদের ভুল সংশোধন করতে পারে।

আরও পড়ুন: ২৪-এর পরাজিত শক্তিকে আস্কারা দেবেন না: বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতি রিজভী

প্রবীণ রাজনীতিবিদ নেজামে ইসলাম পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী (ছোবহানী) বলেন, আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে অন্যান্য দলের মতো ইসলামী দলগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে অনেক নেতাই শীতের মৌসুমে ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে নিজেদের আয়-রোজগারে ব্যস্ত থাকেন। কেউ কেউ মাহফিলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার নেতাদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক করে থাকেন।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেন, ইসলাম সংকীর্ণ নয়, একটি সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা। ধর্মের বাইরেও যেকোনো বিষয়ে, যেকোনো সমস্যা হোক না কেন, তার সমাধান ইসলামে আছে। যেকোনো ক্ষেত্রে নাগরিক অধিকার, মানবিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে প্রতিবাদ করা উচিত। আমাদের দল এজন্য যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করে দেশের মানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করতে। মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা ভূমিকা রাখার চেষ্টা করি। বাধা তো আসবেই, সে জন্য থেমে থাকা যাবে না।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ফ্যাসিবাদের অবসান বা সমাজ থেকে অনিয়ম দূর হবে না। এমনকি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে দেশ আবার সংঘাতের দিকে যেতে পারে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। একইসঙ্গে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারাও সতর্ক করে বলেছেন, গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে অস্বীকার করার পরিণতি সরকারের জন্য ভালো হবে না।