বাজেট উচ্চাভিলাষী নয়, কল্পনাবিলাসীঃ ববি হাজ্জাজ

Abid Rayhan Jaki
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০৭ অপরাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৪ | আপডেট: ৯:০৮ অপরাহ্ন, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসাবে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। 

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, “সংকটকালে আওয়ামী লীগ সরকার প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার যে বাজেট পেশ করেছে সেটা তুলনামূলক বিশ্লেষণে তাঁদের তিন মেয়াদে সবচেয়ে সংকুচিত বাজেট। তাঁদের স্বভাবসুলভ এই বাজেট উচ্চাভিলাষী নয়, কল্পনাবিলাসী। রাজস্ব আহরণের যে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্থমন্ত্রী ধার্য করেছেন সেটা অর্জন করতে হলে আজিজ-বেনজিরসহ আওয়ামী মাফিয়া গোষ্ঠীর যারা অর্থপাচার করেছেন, লুটপাট করেছেন, দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সেখানে হাত দিতে হবে। প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মোটেও প্রস্তুত নয়, তাঁদের সেই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নেই, অবকাঠামো এবং জনবলও নেই। এটা নিছকই রূপকথার গল্পের মত। ঘাটতি মেটাতে যে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা জোগাতে গেলে দেশের ব্যাংকখাত বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কোন অর্থায়ন করতে পারবে না। এই বাজেট বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, কর্মসংস্থান কমবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য আরও নষ্ট হবে।” 

আরও পড়ুন: বাবাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট জাইমা রহমানের

ববি হাজ্জাজ বলেন, “মূল্যস্ফীতির এইসময়ে ব্যক্তিখাতে করমুক্ত আয়ের সীমা না বাড়িয়ে সরকার মধ্যবিত্তের কষ্টার্জিত হালাল উপার্জনে ভাগ বসিয়েছে। ঔষধ উৎপাদনের কাঁচামালের উপর দশ শতাংশ অতিরিক্ত কর আরোপের সিদ্ধান্ত কোন যুক্তিতে অর্থমন্ত্রী নিয়েছেন সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। বাজেটের আকার দেখে বিভ্রান্ত হবার কোন কারণ নেই, প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেটে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে ঋণের সুদ পরিশোধে যদিও এবারের ঋণ যোগ করলে আমাদের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৯০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।”

ববি হাজ্জাজ বলেন, “কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত এতে প্রত্যাশিত সাড়া মেলে নাই। মোবাইল নেটওয়ার্কের সেবার মান বৃদ্ধি না করে মানুষের কথা বলার উপর বাড়তি কর বসানো হয়েছে। ২৭টি নিত্যপণ্যের উপর উৎসে কর কমানো হলেও বাজারে এর কোণ প্রভাব পড়বে না কারণ সরকার কালোবাজারি এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তারুণ্যের জন্য প্রশিক্ষণ, সৃজনশীল কার্যক্রম গ্রহণ, গবেষণা, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা তৈরি ইত্যাদি বিষয়ে অর্থমন্ত্রী কোন সুষ্পষ্ট ধারণা দেন নাই। ব্যাংকখাতের তারল্য সংকট নিয়েও অর্থমন্ত্রী কোন কথা বলেন নাই। অপচয় কমিয়ে সরকারি ব্যয় কিভাবে দক্ষতার সাথে পরিচালনা করা হবে সেবিষয়েও এই বাজেটে কোন দিকনির্দেশনা নেই। 

আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ, তবে গণতন্ত্রের স্বার্থে মেনে নিয়েছি: নাহিদ ইসলাম

তিনি বলেন, “পরিবেশ এবং প্রতিবেশ নিয়ে এই বাজেটে অর্থমন্ত্রী কোন কথা বলেন নাই অথচ চলতি বছর আমরা রেকর্ড তাপপ্রবাহের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। সবুজ বনায়ন সৃষ্টি, প্লাষ্টিকের দূষণ রোধ, দখল হওয়া খাল-নদী উদ্ধার এবং খনন এসব বিষয়ে বাজেটে অগ্রাধিকার থাকার প্রয়োজন ছিলো। অত্যাবশ্যক পণ্যের আমদানিতে এলসি খোলার জটিলতা কিভাবে নিরসন হবে সেবিষয়েও আমরা এই বাজেটে বক্তব্য প্রত্যাশা করেছিলাম। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে যে উচ্চমূল্যের ভ্যাট ধার্য হয়েছে সেটার ভার সাধারণ জনগণকেই বহন করতে হবে। ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার ওপর আবগারি শুল্ক না বসিয়ে কর আহরণে স্মার্ট পদ্ধতি অনুসরণ করলে বেশি সুফল আসত। দেশের অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, স্পেশাল ইকোনোমিক জোন স্থাপন নিয়ে আমরা অর্থমন্ত্রীর কোন বক্তব্য শুনি নাই। এই বাজেটেও বেকার ভাতা খাতে বরাদ্দ না রাখা হতাশাজনক বলে মনে করি।”