ধ্বংস বা প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসা ও সহনশীলতার সমাজ গড়তে হবে: তারেক রহমান
ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ধ্বংস কিংবা প্রতিশোধের রাজনীতি নয়—ভালোবাসা, পরমতসহিষ্ণুতা, শান্তি ও সৌহার্দ্যের সমাজ গড়ার মধ্য দিয়েই সামনে এগোতে হবে।
নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, নতুন বছরে দেশ-বিদেশে বসবাসরত সবাই যেন আনন্দ, শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধিতে ভরপুর জীবন পান—এই কামনাই তিনি করেন।
আরও পড়ুন: ৫০ গাড়ির শোডাউন, ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানাকে অব্যাহতি
তারেক রহমান বলেন, নববর্ষ মানেই কেবল নতুন ক্যালেন্ডারের সূচনা নয়; এটি পুরোনো বছরের ব্যর্থতা ও গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুন আশা, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক। ১ জানুয়ারি আজ বিশ্বব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক উৎসবে রূপ নিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতি নিজস্ব ঐতিহ্য বজায় রেখেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়।
তিনি আরও বলেন, নববর্ষ আমাদের সংস্কৃতি ও চেতনার বহিঃপ্রকাশ। এই সময়ে নতুন করে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিতে হবে। এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন তিনি, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মতামতের স্বাধীনতা থাকবে এবং সবাই সমান গুরুত্ব পাবে।
আরও পড়ুন: বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দা শাহিন আরা লাইলী
গত বছরের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, অর্জন ও সাফল্যের পাশাপাশি বেদনাদায়ক ঘটনাও আমাদের স্পর্শ করেছে। প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা যেমন আমাদের ব্যথিত করে, তেমনি এসব অভিজ্ঞতা সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তিও জোগায়।
নতুন বছরে অঙ্গীকার হিসেবে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, পরাজিত গণবিরোধী শক্তি দীর্ঘদিন জনগণের অধিকার হরণ করে রেখেছিল। এখন সময় এসেছে সব গণতান্ত্রিক শক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার।
তারেক রহমান বলেন, নববর্ষ মানুষের জীবনে নতুন স্পন্দন ও সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। সব অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়ন দূর হয়ে বাংলাদেশ যেন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যায়—এটাই তার প্রত্যাশা।
শেষে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে সংগ্রামী ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় জাতিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নববর্ষে আমাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হোক—
‘ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়; আসুন—ভালোবাসা, সহনশীলতা, শান্তি ও সৌহার্দ্যের সমাজ গড়ে তুলি।’
এই চেতনাতেই গড়ে উঠবে মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।





