পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম, নির্দিষ্ট দলের পক্ষে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ সালাহউদ্দিনের

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ন, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে চালু হওয়া পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। দলটির দাবি, ব্যালট প্রণয়ন, বিতরণ ও ব্যবহারের বিভিন্ন ধাপে স্বচ্ছতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, যা পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই: তাহের

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট চালু হওয়া একটি নতুন উদ্যোগ। ফলে কিছু কারিগরি সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু যেসব অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে, তাতে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।”

সালাহউদ্দিন আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে—কোথাও একটি বাসা থেকে ২০০ থেকে ৩০০টি ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও ব্যালট জব্দের ঘটনা ঘটেছে, আবার কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি একজন ভোটারের নামে পাঠানো ব্যালট অন্য কেউ গ্রহণ করছে—এমন ঘটনাও নজরে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: সাম্য ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে: শিমুল বিশ্বাস

তিনি আরও বলেন, “প্রবাসীদের কাছে ব্যালট কীভাবে পাঠানো হয়েছে, তারা কীভাবে ভোট দেবেন, কোথায় স্ক্যান করবেন, আর এক জায়গায় বিপুলসংখ্যক ব্যালট পাওয়া গেলে তার দায় কার—এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে।”

বৈঠকে নির্বাচন কমিশন বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রয়োজনে আজই তারা ব্যাখ্যা দিতে পারে বলে ইসি জানিয়েছে।

আচরণবিধি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ভোটার স্লিপে ভোটার নম্বরের পাশাপাশি প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা দরকার। বর্তমান আচরণবিধিতে দলের নাম, প্রতীক বা প্রার্থীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেটি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

“ভোটার স্লিপ দেওয়া মানেই ভোটে প্রভাব বিস্তার নয়। ভোটার নিজ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচন সহজ করা উচিত, কঠিন নয়,”—বলেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি সফর স্থগিত করা হয়েছিল আচরণবিধির কথা বলে। অথচ বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার সংস্কার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “যে ব্যালট সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ভোটাররা ব্যবহার করেন, সেই একই ব্যালট পোস্টাল ভোটের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে আলাদা করে প্রতীকসংবলিত ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন হবে না এবং জটিলতাও কমবে।”

নির্বাচন কমিশন বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।