নাহিদ রানার আগুনে বোলিংয়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান, অলআউট ১১৪ রানে

Sanchoy Biswas
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ন, ১১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৬:০৪ অপরাহ্ন, ১১ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের মন্থর উইকেট বরাবরই স্পিনারদের জন্য আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু আজ সেই পরিচিত সমীকরণ ভেঙে তরুণ পেসার নাহিদ রানা তার দ্রুতগতির বোলিংয়ে ঝড় তুলেছেন। তার অবিশ্বাস্য গতির সামনে পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।

নিজের কোটার প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যে পাকিস্তানের শীর্ষ অর্ডারের পাঁচটি উইকেট শিকার করে সফরকারীদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন এই ডানহাতি পেসার। নাহিদ রানার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের দিনে পাকিস্তান অলআউট হয়েছে মাত্র ১১৪ রানে, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।

আরও পড়ুন: মিরপুরে বাংলাদেশ–পাকিস্তান প্রথম ওয়ানডে, মাঠে উপস্থিত ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। ইনিংসের শুরুতে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান মিতব্যয়ী বোলিং করলেও উইকেটের দেখা পাচ্ছিলেন না। অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ সপ্তম ওভারে নিজে আক্রমণে এলেও ব্রেকথ্রু আসছিল না। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তাসকিনকে সরিয়ে নাহিদ রানার হাতে বল তুলে দেন মিরাজ, আর সেখানেই শুরু হয় ‘রানা শো’।

আক্রমণে এসেই নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে সাহিবজাদা ফারহানকে (২৭) আফিফ হোসেনের ক্যাচে ফিরিয়ে দেন নাহিদ। এই উইকেটের মাধ্যমে ভেঙে যায় পাকিস্তানের ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর পরবর্তী চার ওভারে প্রতিটি উইকেট তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েন এই তরুণ পেসার। একে একে শ্যামল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগাকে সাজঘরে ফেরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। মিরপুরের উইকেটে নাহিদ রানার বাউন্স ও গতির সামনে রিজওয়ান-সালমানরা কার্যত চোখে সর্ষে ফুল দেখেছেন।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, লক্ষ্য র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি

নাহিদের সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপে এরপর আঘাত হানেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। ১৯তম ওভারে আব্দুল সামাদকে লিটনের হাতে ক্যাচে ফেরানোর পর হোসাইন তালাত ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এতে মাত্র ৮২ রানের মধ্যে পাকিস্তান হারায় ৯ উইকেট এবং ১০০-র নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে। তবে শেষ উইকেটে ফাহিম আশরাফ ও আবরার আহমেদের ৩২ রানের লড়াকু জুটি কিছুটা লজ্জা কমায়। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম আশরাফ। বাংলাদেশের পক্ষে ২৪ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন নাহিদ রানা।