ইবি শিক্ষক রুনা হত্যা

দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত: পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ন, ০৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৬ অপরাহ্ন, ০৭ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসনিক ও আইনি তৎপরতা জোরদার হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রাথমিক তথ্যে নাম আসায় সমাজকল্যাণ বিভাগের দুই শিক্ষক ও একটি আবাসিক হলের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায় ও সংশ্লিষ্টতা নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক বিধি অনুসরণ করেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং উম্মূল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস।

আরও পড়ুন: জবি সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক নাজিদ, সদস্য সচিব মিলন

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ৪ মার্চ সংঘটিত আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলার প্রাথমিক তথ্যে তাদের নাম উল্লেখ রয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪ অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগে প্রাপ্ত তথ্যে নাম আসায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি শৃঙ্খলা বিধির ১৫(খ) ধারা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বরখাস্তকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী জীবনধারণ ভাতা (subsistence allowance) পাবেন। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, “হত্যা মামলার প্রাথমিক তথ্যে তাদের নাম থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি: 

এদিকে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শনিবার জারি করা পৃথক এক অফিস আদেশে এ কমিটির গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) গোলাম মাওলাকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গাজী আরিফুজ্জামান খান।

অফিস আদেশে তদন্ত কমিটিকে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা নিরূপণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক ও আইনি চাপ: 

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জোরালো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় একদিকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, অন্যদিকে তদন্ত কার্যক্রম একযোগে শুরু করেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।