২২ বছর পর সিলেট যাচ্ছেন তারেক রহমান
দীর্ঘ ২২ বছর পর সিলেট সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছাবেন। মায়ের পথ অনুসরণ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে সিলেটকেই বেছে নিয়েছেন তিনি।
এর আগে সর্বশেষ সিলেট জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির নির্বাচনি রাজনীতিতে সিলেটের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচার শুরু করতেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই তারেক রহমানও সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করছেন।
আরও পড়ুন: ধর্মের অপব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেস্টা আইনত অপরাধন: মাহ্দী আমিন
দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সেদিন সিলেট হয়ে ঢাকায় গেলেও দলীয় নির্দেশনায় নেতাকর্মীদের জড়ো না হওয়ায় সিলেটবাসীর সঙ্গে তার সরাসরি দেখা হয়নি। অবশেষে ২২ বছর পর সিলেটের মানুষের সঙ্গে তার সরাসরি সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে।
জেলা বিএনপির নেতারা জানান, সিলেটে পৌঁছে রাতেই তারেক রহমান হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে যাবেন।
আরও পড়ুন: মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে ধ্বংস হয়েছে এলাকা: মির্জা আব্বাস
পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অরাজনৈতিক তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। পরে বেলা ১১টার দিকে নগরীর চৌহাট্টা এলাকার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এই জনসভা থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে।
জনসভা শেষে তিনি সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন। পথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে পৃথক দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জেও পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে সিলেটে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা এলাকায় তার ছবি সম্বলিত তোরণ, ব্যানার, বিলবোর্ড ও ফেস্টুনে সেজেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলো। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মঞ্চ নির্মাণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
সিলেট-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে তিন লাখের বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটি বিভাগীয় সমাবেশ না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের অন্যতম বড় জনসমাবেশ হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে মাঠে নামানো হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে। জনসভাটি দেশের রাজনীতিতে একটি ‘মাইলফলক’ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জনসভাকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে।





