ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার আহ্বান জামায়াত আমিরের

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ন, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৯ অপরাহ্ন, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জাতির উদ্দেশে দুটি সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, দেশের স্বার্থে সবাইকে একটি জায়গায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরস্পরের বিরুদ্ধে আঘাত বা আক্রমণে না গিয়ে নিজ নিজ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে।

উত্তরবঙ্গে দুদিনের নির্বাচনি সফর শুরুর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ধর্মের অপব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেস্টা আইনত অপরাধন: মাহ্দী আমিন

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে বাংলাদেশের কিছু অর্জন হয়েছে—এটি তিনি অস্বীকার করেন না। তবে সামগ্রিকভাবে লাভের তুলনায় ক্ষতির পরিমাণই বেশি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দীর্ঘ এই সময়ে দেশ ধীরে ধীরে ‘চোরাবালিতে’ তলিয়ে গেছে। ধ্বংস করা হয়েছে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আর রাষ্ট্রের ঘাড়ে চাপানো হয়েছে বিপুল অঙ্কের ঋণের বোঝা। এমন প্রতিকূল বাস্তবতার মধ্যেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে ধ্বংস হয়েছে এলাকা: মির্জা আব্বাস

পূর্ববর্তী সরকারের সময় সৃষ্ট ঋণের চাপ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রকে এমন অবস্থায় রেখে যাওয়া হয়েছে যেখানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে যারা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

ভবিষ্যৎ সরকারের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট এখনো কাটেনি। যুবসমাজ ভয়াবহ বেকারত্বে ভুগছে, কর্মক্ষেত্রে কর্মীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। একই সঙ্গে চলাফেরা ও কর্মস্থলে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সমাজ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ স্পষ্টভাবে আমাদের সামনে বিদ্যমান এবং এগুলো মোকাবিলা করতেই হবে। এমন বাস্তবতার মধ্যেই দেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, জনগণ যাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, তাদের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে বা ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। রাষ্ট্রের কোনো পর্যায়ের কেউ যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়—সে বিষয়েও তিনি সতর্কবার্তা দেন।