২২০ আসনে এগিয়ে ভূমিধস বিজয়ে বিএনপি, জামায়াত ৭০ ও এনসিপি ৫ এগিয়ে

Any Akter
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:১১ অপরাহ্ন, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:২২ পূর্বাহ্ন, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২০টি আসনে বিপুল ভোটে এগিয়ে থেকে ভূমিধস বিজয়ের পথে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান ঢাকা ও বগুড়ার দুটি আসনেই বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ঢাকা-১৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। বিশ্বস্ত সূত্রমতে, জামায়াতে ইসলামী ৭০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৫টি আসন থেকে ঢাকা-১১ আসনে সাড়ে ৬শ ভোট বেশি পেয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনার ফলাফলে দেখা যায় জাতীয় পার্টি এবার কোন আসন পায়নি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের পরাজিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: রংপুরের ৬ আসনের ৫টিতে জয়ের পথে জামায়াত জোট, একটিতে এগিয়ে বিএনপি

এবারই প্রথম অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশের ২৯৯টি আসনে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং নির্ভয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও বরিশাল বিভাগে বিএনপি ভালো ফলাফল করেছে। অন্যদিকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে আছে। বিএনপি দুই শতাধিক আসনে এগিয়ে থাকলেও অনেক আসনেই ভোটের ব্যবধান অত্যন্ত কম।

আরও পড়ুন: ঢাকা-৮ আসনে ১২টি কেন্দ্রে এগিয়ে মির্জা আব্বাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং 'জুলাই জাতীয় সনদ' বাস্তবায়নের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

ভোট গ্রহণ শেষে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলসমূহের দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব—এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে—জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাব। এই নির্বাচন আমাদের জন্য মহা আনন্দের ও উৎসবের। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো।”

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিল। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছাবে। আসুন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় আমরা একসঙ্গে কাজ করি।