কেকেআরের বিরুদ্ধে আইনি পথে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত মুস্তাফিজের
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমকে সামনে রেখে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে বাদ পড়ার ঘটনায় আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ ছিল মুস্তাফিজুর রহমানের সামনে। তবে বাংলাদেশি এই পেসার নিজেই সে পথে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মুস্তাফিজুরের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তটি ক্রিকেটীয় কারণের বাইরে হওয়ায় কেকেআরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।
আরও পড়ুন: শর্ত সাপেক্ষে আগামীকাল থেকেই ক্রিকেটে ফিরতে রাজি ক্রিকেটাররা
ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও ছিল। তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজুরের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলটি স্বাভাবিক ক্রিকেটীয় প্রক্রিয়ার অংশ ছিল না। সে কারণে কেকেআরের বিরুদ্ধে আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ ছিল।’
মিঠুন আরও জানান, ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) এই ইস্যুতে কোয়াবকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছিল। প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ, তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার ব্যাপারেও প্রস্তুত ছিল সংগঠনটি। তবে মুস্তাফিজুর রহমান শান্তিপূর্ণ সমাধান চাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: ক্রিকেটারদের বয়কট, অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বিপিএল
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত আইপিএল নিলামে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে নিলামের পর ভারতের কিছু উগ্রপন্থী নেতার আপত্তির মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে বাংলাদেশি এই পেসারকে ছেড়ে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ইস্যু উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মুস্তাফিজুর রহমানের নীরব ও সংযত অবস্থান প্রশংসা কুড়ালেও পুরো ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।





