স্পেনকে রুখে দেওয়া নায়ক ভোজিনহার আবেগঘন গল্প, পাশে ছিলেন না মা
আটালান্টায় মহাকাব্য রচনা করেছেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ম্যাচের নায়ক বনে গেছেন তিনি। অভিষেক বিশ্বকাপেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঐতিহাসিক এই ফল পাওয়ার পর আবেগে ভেঙে পড়েন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক।
ম্যাচ শেষে দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্না করতে দেখা যায় ভোজিনহাকে। পরে সেই কান্নার কারণও জানান তিনি। জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তে পাশে ছিলেন না তার মা। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও ভিসা জটিলতার কারণে তাকে বিশ্বকাপের ভেন্যুতে আনতে পারেননি তিনি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে তৈরি জার্সি পরে রেকর্ড কেপ ভার্দের
আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ভোজিনহা বলেন, “ম্যাচের পর আমি কেঁদেছিলাম, কারণ ছোটবেলায় আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি। কিন্তু তারা আজ এখানে নেই। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। আমার মাও এখানে থাকতে পারেননি। ভিসা জটিলতা এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সময়মতো সবকিছু সম্পন্ন করতে পারিনি।”
ভোজিনহার এই আবেগঘন গল্প স্পর্শ করেছে ফুটবল বিশ্বকেও। সাবেক স্কটিশ উইঙ্গার প্যাট নেভিন তার বিশ্লেষণে লিখেছেন, পুরো ম্যাচেই অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন ভোজিনহা।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়াবে ব্রাজিল, বিশ্বাস কাকার
নেভিন বলেন, “৪০ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে মাঠে তিনি যা করেছেন, তা অবিশ্বাস্য। ম্যাচ শেষে সব ক্যামেরা ছিল তার দিকে। সতীর্থরাও প্রকৃত নায়ক হিসেবে তাকেই দেখিয়ে দিচ্ছিল।”
সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার লি ডিক্সনও ভোজিনহার কান্না দেখে আবেগাপ্লুত হন। তিনি বলেন, “আমি সত্যিই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। কেপ ভার্দে এই একটি পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিল। ভোজিনহাকে কাঁদতে দেখে আমার নিজেরও প্রায় কান্না চলে আসছিল।”
বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ড্র করে ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। আর গোলবারের নিচে অসাধারণ পারফরম্যান্স ও মানবিক গল্প দিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করেছেন ভোজিনহা।





