স্টারলিংকে পাওয়া যাবে যেসব সুবিধা
ইলন মাস্কের বিশ্বখ্যাত স্যাটেলাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে। স্টারলিংক স্যাটেলাইটভিত্তিক দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা। মঙ্গলবার (২০ মে) সকালে প্রতিষ্ঠানটির এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের মতো জনবহুল এবং ভৌগোলিক বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ দেশে স্টারলিংকের এই সেবা একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। দেশে এখনো বহু দুর্গম অঞ্চলে স্থলভিত্তিক ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছায়নি। বিশেষ করে চর, পাহাড় এবং প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ব্রডব্যান্ড সংযোগের অভাব রয়েছে। স্টারলিংকের মাধ্যমে এই এলাকাগুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরের আগে সচল মোবাইল বন্ধ হবে না
স্টারলিংক একটি স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার ওপরে লো আর্থ অরবিটে (LEO) স্থাপিত হাজার হাজার স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এটি প্রচলিত ভূস্থির (geostationary) স্যাটেলাইটের চেয়ে অনেক দ্রুতগতির ও কম লেটেন্সির ইন্টারনেট সেবা দিতে সক্ষম। বর্তমানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে স্টারলিংকের কার্যক্রম রয়েছে।
স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের একটি বিশেষ কিট কিনতে হবে, যার মধ্যে রিসিভার, অ্যান্টেনা, রাউটার এবং পাওয়ার সাপ্লাই অন্তর্ভুক্ত। এই কিটের দাম ৩৪৯ থেকে ৫৯৯ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৪৩ হাজার থেকে ৭৪ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন: ফেসবুকে এক সপ্তাহেই যেভাবে পাবেন মনিটাইজেশন
মাসিক ভিত্তিতে ইন্টারনেট সেবা পেতে ১২০ ডলার (প্রায় ১৫ হাজার টাকা) ফি দিতে হবে। কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্য খরচ আরও বেশি হতে পারে। স্টারলিংক সাধারণত ২৫ থেকে ২২৮ এমবিপিএস পর্যন্ত ডাউনলোড স্পিড দিয়ে থাকে। বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই গড়ে ১০০ এমবিপিএসের বেশি গতি পান।
পাওয়া যাবে যেসব সুবিধা—
দুর্গম এলাকায় সংযোগ: প্রত্যন্ত গ্রাম, পাহাড়ি ও চরাঞ্চলেও মিলবে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট।
দুর্যোগকালীন যোগাযোগ: প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত যোগাযোগ রক্ষা করা যাবে।
গোপনীয়তা: স্টারলিংক কর্তৃপক্ষ আড়িপাতার সুযোগ কম রাখে, ফলে ব্যক্তিগত তথ্য ও যোগাযোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
এর আগে ২০২৪ সালে, বাংলাদেশ সরকার ও স্টারলিংকের মধ্যে এক বৈঠকে সেবা প্রদানে আড়িপাতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। স্টারলিংক সাধারণত গোপনীয়তা রক্ষার নীতিতে অটল থাকে, তবে স্থানীয় নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সেবা প্রদান করতে সম্মত হয়েছে।
স্টারলিংকের এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের ডিজিটাল সংযুক্তির পথ আরও মজবুত হবে এবং ফ্রিল্যান্সিং, রিমোট জব, অনলাইন শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে।





