এক ঘণ্টায় ১২৬ মিমি বৃষ্টি—ফেনীতে ‘মেঘ বিস্ফোরণ’, পানিতে ডুবেছে শহর
অস্বাভাবিক প্রবল বর্ষণে ‘মেঘ বিস্ফোরণ’-সদৃশ পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফেনীর জনজীবন। মাত্র এক ঘণ্টায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও চরম ভোগান্তি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে হঠাৎ নেমে আসা ভারী বর্ষণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে ফেনী শহর। জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বিকাল ৩টা পর্যন্ত এক ঘণ্টায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বল্প সময়ে অস্বাভাবিক উচ্চমাত্রার বর্ষণ হিসেবে বিবেচিত। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় মোট বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ১৫০ মিলিমিটার—চলতি বছরের সর্বোচ্চ।
আরও পড়ুন: যেমন থাকবে আগামী পাচঁ দিনের আবহাওয়া
প্রবল বর্ষণে শহরের ডাক্তারপাড়া, শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়ক, পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস এলাকা, শাহীন একাডেমি সংলগ্ন সড়ক, পাঠানবাড়ি, নাজির রোড, মিজান রোড, সদর হাসপাতাল মোড় ও পেট্রোবাংলা এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। নিচু সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং বিভিন্ন দোকানপাটে পানি ঢুকে পণ্যসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প সময়ের ভারী বর্ষণেই শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ফলে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়নি এবং নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশজুড়ে বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, পাঁচ জেলায় ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি
ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির উদ্দিন জানান, “টানা বর্ষণের কারণে ড্রেন ও খাল দিয়ে পানি ধীরগতিতে নামছে। এ কারণে সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পৌরসভার ১২টি টিম কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুত পানি নেমে যাবে।”
অন্যদিকে, জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, “স্বাভাবিক লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী তিন দিন পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ও কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্প সময়ে অস্বাভাবিক মাত্রার এ ধরনের বর্ষণ ‘ক্লাউডবার্স্ট’ বা ‘মেঘ বিস্ফোরণ’ হিসেবে পরিচিত। এতে অল্প এলাকায় খুব কম সময়ে ১০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত ঘটে, যা আকস্মিক বন্যা ও নগর জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ফেনীর এই পরিস্থিতি নগর অবকাঠামো, বিশেষ করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।





