নাসিরনগরে শশা খাওয়া নিয়ে টেটাযুদ্ধ, আহত শতাধিক

Sadek Ali
চন্দন কুমার দেব, নাসিরনগর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৫ | আপডেট: ৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, ১৮ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে শশা খাওয়া’কে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। টানা ৩ ঘন্টা চলে সংঘর্ষ । উভয়পক্ষ মিলে আহত হয়েছে শতাধিক লোক। ঘটনার সুত্রপাত ৯ জুন দুপুরে।

জানা যায়, উপজেলার শ্রীঘর দক্ষিন গ্রামের টেনু মিয়ার ছেলে জালাল মিয়া গরু চড়াতে গিয়ে বন্ধুদের নিয়ে শশা চুরি করে খায় একই গ্রামের জুলহাস মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়ার শশা জমি থেকে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে কথা কাটাকাটির এক পযায়ে শুরু হয় হাতাহাতি। বিকেলের মধ্যেই সৃষ্ট বিবাদ ডালপালা মেলে রুপ নেয় গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে। সরকার বাড়ির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানি এটিএম মনিরুজ্জামান সরকারের গ্রুপ ও বড় হাটি তালুকদার বাড়ির লিটন মিয়ার গ্রুপ জড়িয়ে পড়ে প্রকাশ্যে বিবাদে। শুরু হয় হুমকি ধমকি ও প্রতিশোধের হুংকার। থমথমে পরিস্থিতি নেমে আসে এলাকায়। পুলিশ প্রশাসন জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে রাতে কয়েকদফা চেষ্টা করে বিবাদ নিরসনের। কিন্তু সবচেষ্টা বিফল করে সকালে সূর্য উদয়ের সাথে সাথে দানা মিয়ার বাড়ির পাশে মাঠে দুই পক্ষ নেমে যায় টেটা যুদ্ধে। চলে  বেলা প্রায় ৮টা পযন্ত। উভয় পক্ষ মিলে আহত হয়েছে কমপক্ষে  ১০০ লোক। আহত ৮৪ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তন্মধ্যে গুরুতর আহত জালাল মিয়া (৪০) শাহালম (৩৫) রাফি মিয়া (১১) আমিরআলী (৩৫) দুলাল মিয়া (৩০) নামে ০৫জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে দুই বন্ধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

পাশ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার  স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজী সামছুল আরেফিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ পযন্ত শ্রীঘর গ্রামের ৫-৬ জন আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন তার হাসপাতালে তন্মদ্বে ১ জনকে রেফার করা হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য।

বুড়িশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল চৌধুরী দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন,” তুচ্ছ ঘটনা শশা খাওয়া নিয়ে ঘটে সংঘর্ষ।  সংঘাত নিরসনের চেষ্টা করা হয়েছে, হঠাৎ করে সকালে আবার একটা মারামারি লেগে গেছে । এখন ২পক্ষরে আমরা আনাইছি, পরিবেশ শান্ত আছে।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সেই এএসপি বদলি

নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: খাইরুল আলম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সমঝোতার জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করছেন।