চাপ ছাড়াই ঝরছে পানি, রহস্যময় নলকূপ আলোচনায়

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৫ অপরাহ্ন, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন গ্রাম ভাবেরমুড়া দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি অদ্ভুত নলকূপের কারণে। সাধারণ নলকূপের মতো চাপ দিতে হয় না, এখানে বছরের পর বছর পানি ঝরে পড়ছে একটানা।

প্রায় ২০ বছর আগে পাক দরবার শরিফের পাশে বসানো হয়েছিল এই নলকূপ। খননের পরদিন থেকেই পানি ওঠা শুরু হয়। তারপর থেকে আজ অবধি এক মুহূর্তও থেমে থাকেনি পানির প্রবাহ।

আরও পড়ুন: ফতেহপুর জামশেদীয়া দরবার শরীফে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন

স্থানীয় প্রবীণ শফিকুর রহমান বলেন, “আমার জীবনে বহু নলকূপ দেখেছি, কিন্তু কোনো চাপ ছাড়াই এমনভাবে পানি ঝরতে দেখিনি। এটা নিঃসন্দেহে আল্লাহর এক রহমত।”

ভাবেরমুড়া ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি গ্রাম এবং ভারতের ত্রিপুরা থেকেও অনেক মানুষ এই পানি সংগ্রহ করতে আসেন। কেউ পান করার জন্য, কেউ ওজুর কাজে, আবার কেউ কেউ রোগমুক্তির আশায় ব্যবহার করেন।

আরও পড়ুন: গরু কাটার ‘খাইট্টায়’ কাস্টমস কর্মীর মরদেহ ১৫ টুকরো, গ্রেপ্তার ২

স্থানীয় কৃষক মিজানুর রহমান জানান, “খরার মৌসুমে পাশের গ্রামে ফসল নষ্ট হলেও আমরা এই নলকূপের পানি দিয়ে জমি সেচ দিই। ফলে ভালো ফলন পাই।”

দরবার শরিফের খাদেম মাওলানা কাজী দিদারুল হক বলেন, “অনেকে বিশ্বাস করেন এই পানি খেলে বা ব্যবহার করলে রোগ ভালো হয়। আমরা এটাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত মনে করি।”

গ্রামবাসীর দাবি, খাল-বিলের মাধ্যমে এই পানির প্রবাহ আশপাশের কৃষিজমিতেও পৌঁছে যায়। ফলে পানির অভাবে এখানে ফসল চাষে সমস্যা হয় না।

যদিও এখনও এ ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মেলেনি। প্রশাসনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত করেনি। তবে স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।