বিবিধ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পৌর প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে
রাজশাহীর প্রথম শ্রেণীর চারঘাট পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিবিধ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পৌরবাসির সার্বিক সেবা, নগর উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প এবং টেন্ডারে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
চারঘাট পৌরসভা ১৮.৭৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে অবস্থিত এবং এখানে ৪০,৩৮২ জন পুরুষ ও মহিলা বাস করেন। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মুসলিম, হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের মানুষ বসবাস করছেন। এই পৌরসভার মোট ১২৫ কিঃমিঃ সড়ক রয়েছে, যার মধ্যে ৮১ কিঃমিঃ পাকা, ১৮ কিঃমিঃ সেমি-পাকা এবং ২৬ কিঃমিঃ কাঁচা। সম্প্রতি কিছু সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: চুনারুঘাটে ‘স’ মিলে অভিযান: প্রায় সাড়ে ৩৪ ঘনফুট অবৈধ কাঠ জব্দ
বিগত সরকারের সময়কাল থেকে ইউজিপের কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে এই পৌরসভা, কিন্তু অর্থ লোপাটের অভিযোগে সিংহভাগ টাকা অনিয়মে ব্যবহৃত হয়েছে। দুদক ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রমাণও পেয়েছে। গত ৭ জুলাই ২৫ তারিখে প্রধান প্রকৌশলী আতাউর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার ৬ মাসের কার্যকালেও লক্ষ লক্ষ টাকার আতৎসাতের গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
পৌরবাসির সার্বিক সেবা প্রদানে বিলম্ব, স্থায়ী বাসিন্দাদের ট্রেড সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, লাইটিং ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে ভোগান্তি চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারদের বিল পাশ করার সময় ৩.৫০% উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ইউজিপ বরাদ্দকৃত প্রকল্পের নামে অর্থ লোপাট হচ্ছে এবং সরকারি বরাদ্দের খরচেও রাজনৈতিক দলের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: তিন সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে, বদলে যাবে যোগাযোগব্যবস্থা: এমএ মান্নান এমপি
মঙ্গলবার দুপুরে অভিযোগের বিষয়ে পৌর প্রকৌশলী তথ্য উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “টিআর এর ২২ লক্ষ টাকার রাড্ডের কাজ চলছে। ইউজিপের বিভিন্ন দিবস পালনের অর্থ খরচের বিস্তারিত তথ্য সময়ের মধ্যে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক দলের পরামর্শ বিষয়ে, দপ্তরের কাজ দাপ্তরিকভাবেই করা হচ্ছে।” তিনি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন দাবি করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, সাংবাদিকদের অভিযোগগুলো অস্পষ্ট। তিনি পৌর প্রকৌশলীর সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন। তিনি ৩০ ডিসেম্বর ২৪ তারিখে ইউএনও হিসাবে যোগদান এবং ১৯ জানুয়ারি ২৫ তারিখে পৌর মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।





