কাশিয়ানীতে দুর্বৃত্তদের হামলায় যুবক নিহত
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মোকলেছ মোল্যা (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার সন্ধ্যায় ফুকরা ইউনিয়নের তারাইল নাজির কাজীর মোড় এলাকায় সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পেছনে পূর্বশত্রুতা নাকি পরিকল্পিত হামলা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিহত মোকলেছ মোল্যা ওই এলাকার আবুল কালাম মোল্যার ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিয়মিত ওই সড়ক ব্যবহার করতেন। ঘটনার দিনও পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন।
আরও পড়ুন: কাপাসিয়ার কৃতিসন্তান প্রাক্তন সচিব আইয়ুবুর রহমান খানের জানাজা সম্পন্ন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোকলেছ মোল্যা তারাইল বাজার থেকে সাকিব নামের এক যুবকের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তারা নাজির কাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা ৪–৫ জন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় তারা মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে সাকিব পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মোকলেছ মোল্যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কের মোড় হলেও ভয়ের কারণে প্রত্যক্ষদর্শীরা মুখ খুলতে অনীহা প্রকাশ করছেন। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় মোকলেছ মোল্যাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক এ কে এম সিরাজুল ইসলাম জানান, রাত ৮টার দিকে মোকলেছ মোল্যাকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: সিলেট প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব: সভাপতি মুক্তাবিস উন-নূর, সম্পাদক সিরাজ
হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিত হামলা। তবে কারা এবং কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তারা এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ নাফিছুর রহমান ও আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছি। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





