ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রাম, হাসপাতালে রোগীর চাপ

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ন, ০২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:০৩ অপরাহ্ন, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঘন কুয়াশা আর শীতল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের জনজীবন। রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চরাঞ্চলের দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।

আরও পড়ুন: মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, শীতে কাঁপছে পঞ্চগড়

তীব্র শীতের প্রভাবে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালসহ জেলার ৯টি উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন শতশত রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

২৫০ শয্যার কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে বর্তমানে শয্যার দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেককে মেঝেতে বিছানা পেতে থাকতে হচ্ছে। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আল আমিন জানান, তীব্র শীতের কারণে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

আরও পড়ুন: যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আগুনে পুড়ে গেছে দুইশ বছরের পুরোনো দলিলপত্র

শীতের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। পৌরসভার চামড়ার গোলা এলাকার দিনমজুর জহির আহমেদ বলেন,

“গত চার দিন ধরে কোনো কাজ নেই। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।”

ধরলাম এলাকার ভ্যানচালক আমিনুল ইসলাম জানান, শীতের আগে দিনে যেখানে ৫০০-৬০০ টাকা আয় হতো, এখন তা কমে ২০০ টাকায় নেমে এসেছে।

ঘন কুয়াশায় নদী পারাপারেও বেড়েছে দুর্ভোগ। রৌমারী থেকে কুড়িগ্রাম জজ কোর্টে হাজিরা দিতে আসা মেহেদী, মাসুদ ও জলিল মিয়া বলেন, কুয়াশার কারণে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হতে এক ঘণ্টার পথ এখন সময় নিচ্ছে প্রায় তিন ঘণ্টা। এতে আইনি ঝামেলাসহ চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস জানান, শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বেশিরভাগ রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, জেলার ৯টি উপজেলায় ২২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সহায়তার জন্য ৫৪ লাখ টাকা মজুদ আছে।

আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুয়াশার প্রভাব আরও কয়েকদিন থাকতে পারে, ফলে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকবে।